সর্বশেষ

জাতীয়দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাদের বৈঠক
শেখ হাসিনার দপ্তর ও গণভবনের খাবারের বিল বাকি আড়াই কোটি
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের পাশে থাকার অঙ্গীকার তারেক রহমানের
সারাদেশ২১ বছর পর টাঙ্গাইলে যাচ্ছেন তারেক রহমান, ব্যাপক প্রস্তুতি
শেরপুরে জামায়াত নেতার মৃত্যু: তিন দিন পর হত্যা মামলা দায়ের
আন্তর্জাতিকইরানে শাসন পরিবর্তনে ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে’ হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের
মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অবৈধ অভিবাসী আটক
খেলাসাকিবকে পাকিস্তান সিরিজে খেলাতে চায় বিসিবি
অর্থনীতি

শেখ হাসিনার দপ্তর ও গণভবনের খাবারের বিল বাকি আড়াই কোটি

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:৩৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি কার্যালয় ও বাসভবন গণভবনে খাবার সরবরাহ করে প্রায় আড়াই কোটি টাকার বেশি বকেয়া বিল আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান হোটেল অবকাশ।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বাপক) আওতাধীন এই প্রতিষ্ঠানটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে খাবার সরবরাহ করলেও সাবেক সরকারের সময়কার বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও ওই দায় গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বকালে নিয়মিতভাবে তাঁর কার্যালয় ও বাসভবনে চাহিদা অনুযায়ী খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করত হোটেল অবকাশ। এ বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তিও ছিল। নিয়মিত বিল পরিশোধের পাশাপাশি কিছু বকেয়া থাকলেও ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর থেকে সেই বকেয়া আর পরিশোধ করা হয়নি।

হোটেল অবকাশের মালিকানা সংস্থা বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যে একাধিকবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার আগের সরকারের সময়কার বিল পরিশোধে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশাপাশি বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবন যমুনাতেও নিয়মিত খাবার সরবরাহ করছে হোটেল অবকাশ। এ খাতেও প্রায় ৩৫ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। তাঁর দাবি, সাধারণত সব বিল পরিশোধ করা হয়, তবে কিছু চলমান বিল প্রক্রিয়াধীন থাকতে পারে।

পর্যটন করপোরেশনের পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হোটেল অবকাশের মোট অপরিশোধিত পাওনা প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিপরীতে বকেয়া ছিল প্রায় ২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবনে সরবরাহ করা খাবার ও সামগ্রীর মূল্য প্রায় ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

চিঠিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছে। কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন–ভাতা পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে, পাশাপাশি কাঁচামাল সরবরাহকারীদের পাওনাও জমে উঠেছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী খাবার সরবরাহ অব্যাহত রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হলেও ২০২৫ সালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সঙ্গে নতুন করে এক বছরের জন্য খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহের চুক্তি করেছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। চুক্তি অনুযায়ী, হোটেল অবকাশ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবনে দৈনন্দিন আপ্যায়নসহ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ করছে।

চুক্তিতে মোট ৪৬০ ধরনের খাবার ও সামগ্রী নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বেকারি পণ্য, দেশি–বিদেশি ফল, মিষ্টান্ন, মসলা, ডাল, ঘি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সায়েমা শাহীন সুলতানা বলেন, বিল বকেয়া থাকার বিষয়টি সত্য। তবে নিয়ম অনুযায়ী বকেয়া আদায়ের দায়িত্ব হোটেল অবকাশ কর্তৃপক্ষের। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিধি মেনে বাকিতে সেবা দেওয়া হয় এবং কিছু বিল বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হোটেল অবকাশ দীর্ঘদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাসভবনে খাবার সরবরাহ করে আসছে। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সময় রান্না ও কেনাকাটার পুরো দায়িত্ব থাকলেও বর্তমানে কেবল প্রস্তুত খাবার ও সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সভা বেশি হওয়ায় আগের সরকারের সময় খাবারের চাহিদা ও বকেয়ার পরিমাণও তুলনামূলক বেশি ছিল বলে জানান তাঁরা।

১২৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
অর্থনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন