টেংরাটিলা বিস্ফোরণ মামলা: ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে বাংলাদেশ
বৃহস্পতিবার , ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ৭:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতে বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
কানাডিয়ান জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাইকো রিসোর্সেসকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউট (ইকসিড) ট্রাইব্যুনাল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ে নাইকোকে বাংলাদেশকে এই অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তী সময়ে কূপ খননের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৯০ থেকে ১ হাজার ৯৭৫ মিটার গভীরতায় নয়টি গ্যাস স্তর শনাক্ত করা হয়। এখান থেকে উত্তোলিত গ্যাস ছাতক সিমেন্ট ও পেপার মিলে সরবরাহ করা হতো। প্রায় ২৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের পর কূপে পানি উঠে আসায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০০৩ সালে গ্যাস অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় নাইকোকে। তবে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন খননকাজ চলাকালে পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
এ ঘটনায় পেট্রোবাংলা নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও প্রতিষ্ঠানটি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ২০০৭ সালে স্থানীয় আদালতে মামলা করা হয় এবং নাইকোর ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস বিল পরিশোধ স্থগিত করা হয়। হাইকোর্ট নাইকোর সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টেও বাংলাদেশের পক্ষে রায় আসে।
এরপর ২০১০ সালে নাইকো ইকসিডে দুটি মামলা করে। পাল্টা হিসেবে ২০১৬ সালে বাপেক্স প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকা (প্রায় ১১৭ কোটি ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবি করে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করে।
চূড়ান্ত রায়ে ইকসিড উল্লেখ করেছে, নাইকোর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় খননকাজ পরিচালিত হলেও আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। প্রয়োজনীয় সতর্কতা না নেওয়ার কারণেই বিস্ফোরণ ঘটে এবং এর দায় সরাসরি নাইকোর ওপর বর্তায়।
এই রায়কে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে