সাদ্দামের ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার জেলারের, আচরণগত কারণেই স্থানান্তর
বৃহস্পতিবার , ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের করা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, টাকার কোনো বিষয় নয়; বরং কারাগারে শৃঙ্খলাভঙ্গ, কারারক্ষীদের হুমকি এবং অন্য বন্দীকে মারধরের মতো একাধিক কারা অপরাধের কারণেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সাদ্দামকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকায় স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারত শেষে সাদ্দাম অভিযোগ করেন, বাগেরহাট জেলা কারাগারে থাকতে হলে জেলার তার কাছে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। ঘুষ দিতে না পারায় তাকে যশোর কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন বলেন, “কোনো জেলার একক সিদ্ধান্তে বন্দী স্থানান্তর সম্ভব নয়। সাদ্দামের বিরুদ্ধে কারাগারের নথিভুক্ত একাধিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। তার আচরণের কারণেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তাকে যশোরে পাঠানো হয়। এ ছাড়া অন্য কোনো ঘটনা নেই।”
কারাগারের নথি অনুযায়ী, বন্দী থাকা অবস্থায় গত বছরের ১২ মার্চ সাদ্দাম এক সেল ইনচার্জকে হুমকি ও গালাগাল করেন। একই বছরের ৬ জুলাই তিনি আরেক বন্দীকে মারধর করেন। এসব ঘটনায় তাকে একাধিকবার কারা অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়।
এদিকে সাদ্দাম দাবি করেন, বন্দীদের সাক্ষাৎ ও ফোনে কথা বলার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে এবং স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পরও তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তনের আন্দোলনের কথা বলা হলেও বাস্তবে তিনি তার সন্তানের লাশ পর্যন্ত ধরতে পারেননি।
উল্লেখ্য, জুয়েল হাসান সাদ্দাম বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে যান। ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন আদালতের নির্দেশে বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ‘প্রশাসনিক কারণে’ ২২ জুলাই তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী (২২) ও ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় দেশজুড়ে সমালোচনা হয়। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে বুধবার যশোর কারাগার থেকে মুক্ত হন সাদ্দাম।
১২২ বার পড়া হয়েছে