সাবেক চেয়ারম্যানের অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা শঙ্কা, ইইউবি দুই দিনের জন্য বন্ধ
সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানীর গাবতলিতে অবস্থিত ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ইইউবি) ক্যাম্পাসে উদ্ভূত উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই দিনের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। এ সময় সব পরীক্ষা স্থগিত থাকবে, তবে ক্লাস অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. এস. এম. জোবায়ের এনামুল করিম স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনিবার্য কারণবশত আগামী ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ক্যাম্পাসে সরাসরি একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে জানানো হবে। তবে ভর্তি ও হিসাব শাখার দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চালু থাকবে। আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পূর্বের নিয়মে শুরু হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মকবুল আহমেদ খানের সঙ্গে বর্তমান চেয়ারম্যান আহমেদ ফরহাদ খান তানিমের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই ক্যাম্পাসে এই অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২৬ অক্টোবর ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন ড. মকবুল আহমেদ খান। পরে তার ছেলে আহমেদ ফরহাদ খান তানিম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. মকবুল আহমেদ খান পুনরায় তার আগের পদ ফিরে পেতে উদ্যোগ নেন, যা নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
বর্তমান চেয়ারম্যান আহমেদ ফরহাদ খান তানিম দাবি করেন, তার বাবা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন এবং তিনি আইনগত ও বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। এ নিয়ে এক পর্যায়ে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সিভিল রিট পিটিশন নং ৪০৩৫/২৫ মামলায় ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ ড. মকবুল আহমেদ খানকে একা ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেন। বয়সজনিত কারণে প্রয়োজনে একজন সহযোগী সঙ্গে নেওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়।
তবে সম্প্রতি তিনি আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় দারুস সালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেজর (অব.) আমিনুর রহমান জানান, ড. মকবুল আহমেদ খান বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। তার সঙ্গে শিক্ষার্থী আসিফ সরকার, শামীম আহমেদ এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন জয়, মেহেদী হাসান, সামিরসহ আরও কয়েকজন যুক্ত ছিলেন। এ সময় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রক্টর আরও বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৬৫ বার পড়া হয়েছে