বিএনপির সঙ্গে নাগরিক ঐক্যের বিচ্ছেদ, নির্বাচন ছাড়ব না বললেন মান্না
বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় বিএনপির সঙ্গে পথ আলাদা করল মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য। দলটি জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা এককভাবে দলীয় প্রতীক ‘কেটলি’ নিয়ে ১১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। দলের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকা-১৮ (উত্তরা) ও বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রার্থী হচ্ছেন।
নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে এই বিচ্ছেদ ঘটল। নাগরিক ঐক্য এবার ‘বদলে দাও বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মান্না ছাড়াও নাগরিক ঐক্যের আরও নয়জন নেতা বিভিন্ন আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রংপুর-৫ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাখখারুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-১ আসনে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব আনোয়ার, জামালপুর-৪ আসনে মো. কবির হাসান এবং পাবনা-৪ আসনে অর্থবিষয়ক সম্পাদক শাহনাজ রানু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-৯, চাঁদপুর-২, কুড়িগ্রাম-২, রাজশাহী-২ ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনেও দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে নামছেন।
নাগরিক ঐক্যের একক নির্বাচনী সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিএনপির সঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রায় এক যুগের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অবসান ঘটল। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাহমুদুর রহমান মান্না প্রথম আলোকে বলেন, বগুড়া-২ আসনে শুরুতে বিএনপি তাঁকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিল। এমনকি দলটির মহাসচিব সংবাদ সম্মেলনে তাঁর নামও ঘোষণা করেন। কিন্তু পরে ওই আসনে বিএনপি নিজেদের প্রার্থী দেয়। একই পরিস্থিতি দেখা যায় ঢাকা-১৮ আসনেও। এতে বাধ্য হয়েই নাগরিক ঐক্য এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত সোমবার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মান্না দুই আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন।
‘মন্ত্রী হওয়ার আশ্বাসে রাজনীতি ছাড়ব কেন’
এদিকে সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় মান্নার কাছে নির্বাচন না করার বিনিময়ে মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব আসে বলে তিনি দাবি করেছেন। মান্নার ভাষ্য অনুযায়ী, এক সাংবাদিকের মাধ্যমে তাঁকে জানানো হয়—নির্বাচনে না গেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তাঁকে মন্ত্রী করতে পারেন। তবে তিনি এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।
মান্না বলেন, “আমি রাজনীতি করি। নির্বাচন মানেই এখন রাজনীতি। নির্বাচন ছেড়ে মন্ত্রী হওয়ার প্রশ্নই আসে না।” বিষয়টি তিনি বিএনপির উচ্চপর্যায়ের এক নেতাকেও জানিয়েছেন বলে দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মঙ্গলবার রাতে ঢাকার উত্তরায় এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মান্না আবারও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “মন্ত্রী হলে পরে হব, না হলেও সমস্যা নেই। কিন্তু নির্বাচন ছাড়ব না। মন্ত্রী হওয়ার আশ্বাস দিয়ে রাজনীতি বন্ধ করা ভিক্ষা নেওয়ার মতো।”
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের পর থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিএনপির ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে নাগরিক ঐক্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক হিসেবে নির্বাচন করে। পরবর্তীতে গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক দল হিসেবেও নাগরিক ঐক্য যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত ছিল। তবে সর্বশেষ আসন সমঝোতায় প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় দলটি এককভাবে নির্বাচনে নামার সিদ্ধান্ত নেয়।
একই কারণে আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জেএসডিও আলাদাভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে