আজ পে কমিশনের প্রতিবেদন জমা, বাড়তি ব্যয় ৮০ হাজার কোটি টাকা
বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন ও ভাতা কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এই ব্যয়ের দায় মূলত পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে বহন করতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান সরকারকেই করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরেই নতুন পে স্কেলের প্রয়োজন ছিল। তবে ভবিষ্যৎ সরকার চাইলে এ সুপারিশ বাস্তবায়ন নাও করতে পারে।
অর্থ উপদেষ্টা জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন ও ভাতা নির্ধারণে গঠিত পে কমিশন আজ বুধবার বিকেল পাঁচটায় তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থ সচিব উপস্থিত থাকবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে স্বল্প সময় থাকায় এই মেয়াদে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কমিশনের সুপারিশ সরাসরি বাস্তবায়ন করা হয় না। এ বিষয়ে একাধিক কমিটি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে থাকে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। তিনি বলেন, প্রতিবেদন জমা দেওয়াই এই সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। পে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী নতুন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে এ খাতে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানা গেছে।
দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পে কমিশন ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের প্রস্তাব দিতে পারে। আর পূর্ণ বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই।
বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ থাকতে পারে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপে বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন ও ভাতা খাতে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা নতুন বেতন কাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবসম্মত এবং দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় করেই তৈরি করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বাজার পরিস্থিতির বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সন্তুষ্ট হবেন।
বেতন বৃদ্ধি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এতে বাজারে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে না। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে অর্থ উপদেষ্টা জানান, আগামী ২৭ জানুয়ারি করনীতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেবে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)। ভবিষ্যৎ রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথনকশা অনেকাংশেই ওই প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে