আজ শহীদ আসাদ দিবস, স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন
মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:৫০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আজ ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে আইয়ুববিরোধী গণ-আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, যিনি শহীদ আসাদ নামে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। তার আত্মত্যাগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের আন্দোলনে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছিল।
দিবসটি উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বাণীতে তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী ও মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মকে দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে যুগে যুগে অনুপ্রাণিত করবে।
প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদ আসাদ দিবস পালন করা হচ্ছে। সকাল ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মূল ফটকের সামনে অবস্থিত শহীদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হবে। পাশাপাশি গান ও কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে শহীদ আসাদকে স্মরণ করা হবে। ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের লড়াকু সাংস্কৃতিক জোট’ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন, পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শহীদ আসাদের সহযোদ্ধারা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্র-জনতার ১১ দফা দাবির মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে মিছিলে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শহীদ হন এবং আরও অনেকে আহত হন। তার রক্তস্নাত আত্মত্যাগ চলমান আন্দোলনকে নতুন গতি দেয়। স্বাধিকারের দাবিতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে আসে এবং আন্দোলন ক্রমেই গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
এদিকে শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষ্যে এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহীদ আসাদের আত্মত্যাগকে গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামের চিরন্তন অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ আসাদ ছিলেন অন্যতম অগ্রনায়ক। তার আত্মত্যাগ আন্দোলনকে তীব্র করে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করে।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, যে গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন নিয়ে শহীদ আসাদ জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব। তিনি গণতন্ত্র ও জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং শহীদ আসাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
১১৭ বার পড়া হয়েছে