এলডিসি উত্তরণ পর্যালোচনায় জাতিসংঘের ঢাকা সফর স্থগিত
শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ৮:১১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ বিষয়ে সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনায় চলতি মাসে ঢাকায় আসার কথা থাকলেও জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলের সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। নতুন কোনো তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
সূত্র জানায়, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও পঞ্চম এলডিসি সম্মেলনের মহাসচিব রাবাব ফাতিমার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটির ঢাকা সফরের কথা ছিল। একই সঙ্গে ২১ জানুয়ারি এলডিসি–উত্তরণ বিষয়ে একটি স্বাধীন প্রস্তুতিমূলক মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপনের সূচিও নির্ধারিত ছিল। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এ সময়ে সফরটি না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী মাসে প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে। তবে সফর স্থগিত হলেও নির্ধারিত সময়েই জাতিসংঘের মূল্যায়ন প্রতিবেদন বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, 'জাতিসংঘ এখন না এলেও পরে আসবে। তবে মূল্যায়ন প্রতিবেদন আমরা পেয়ে যাব। এরপর পরবর্তী প্রক্রিয়া এগোবে।'
এরই মধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর দাবি জোরালো করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এলডিসি সুবিধা উঠে গেলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা হারাবে বাংলাদেশ, ফলে রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইতিবাচক নয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের বিরোধিতাও সম্মিলিত বিরোধিতা হিসেবে গণ্য হতে পারে।
গত ২৪ আগস্ট এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ ও আইসিসি বাংলাদেশসহ ১৬টি ব্যবসায়ী সংগঠন একযোগে সংবাদ সম্মেলন করে এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর দাবি জানায়। সরকার এই দাবি জাতিসংঘকে জানালেও এখন পর্যন্ত উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। অন্যদিকে লাওস ও নেপালও উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেয়নি।
বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা। তবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার উত্তরণ পেছানোর আবেদন করবে না। নির্বাচিত সরকার চাইলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
তিনি বলেন, 'নির্বাচনের কারণে বড় সম্মেলন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। আর উত্তরণ পেছাতে হলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৫১ শতাংশ ভোট পাওয়া সহজ নয়।'
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ও জলবায়ু ভঙ্গুরতার তিন সূচকে উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে। ২০২১ সালের পর্যালোচনার পর কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের উত্তরণের সুপারিশ করে।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, 'অন্তত তিন বছর উত্তরণ পেছানো দরকার। কারিগরি শিক্ষা, উৎপাদনশীলতা, সাশ্রয়ী ঋণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ–জ্বালানি ও সুশাসনে ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান ছাড়া শুধু নামেই এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে দেশের প্রকৃত লাভ হবে না।'
১১৪ বার পড়া হয়েছে