মালয়েশিয়ায় মানব পাচার ও প্রতারণার অভিযোগে শতাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ
বৃহস্পতিবার , ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:৫৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মালয়েশিয়ায় মানব পাচার ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ অনুযায়ী, নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত দাবি করে ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে শতশত মানুষকে বিভিন্ন কৌশলে মালয়েশিয়ায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরে তিনি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নামে অর্থ আদায় করে আসছেন। পরে আরও টাকা আদায়ের জন্য অনেককে আটকে রাখা, ভয়ভীতি দেখানো এবং জিম্মি পরিস্থিতিতে ফেলানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে কেউ কেউ নিজের সর্বশেষ সম্পদ, এমনকি ভিটেবাড়িও বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
সূত্র জানায়, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ বা সীমিত থাকায় মানব পাচার চক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্র ভারত, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড হয়ে নদীপথ ও দুর্গম জঙ্গল ব্যবহার করে মানুষ পাচার করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী বলেন, আমাদের কাছ থেকে প্রথমে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। পরে আরও টাকা না দিলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। অনেকেই এখন বিপদজনক পরিবেশে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
ভিসা নবায়নের নামেও বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও তা কার্যকর না করে ভুক্তভোগীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে অনেকেই মালয়েশিয়ার বিভিন্ন জঙ্গল ও প্রত্যন্ত এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে সাপ ও বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিলেও তার কোনো বৈধ ব্যবসার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং মানব পাচার ও নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকেই তার বিলাসবহুল জীবনযাপন পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। গত কয়েক বছরে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।
কয়েকজন ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারিবারিক সদস্যদের ব্যবহার করেও এই প্রতারণা কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারকরা মানুষের বিশ্বাস অর্জনে অত্যন্ত পারদর্শী। তারা মানসিকভাবে মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে, যা সমাজের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। যুব সমাজের স্বাভাবিক বিকাশে এরা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই এ ধরনের অপরাধ চক্রকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
১৩০ বার পড়া হয়েছে