ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযান, ভয়াবহ প্রাণহানির আশঙ্কা
রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ৩:৩২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তাবাহিনীর কঠোর অভিযানে ভয়াবহ প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি তাজা গুলি ছোড়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ রেখে নিরাপত্তাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র বাইরে আসছে না। তবে যে তথ্য ও ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বিভিন্ন এলাকায় প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার স্পষ্ট।
দক্ষিণ তেহরানের কাহরিজাক এলাকা থেকে পাঠানো একটি ভিডিওতে একাধিক মরদেহ মাটিতে পড়ে থাকতে এবং কয়েকটি মরদেহ বডি ব্যাগে রাখা অবস্থায় দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেখানে কয়েক ডজন মরদেহ রয়েছে। একই সঙ্গে একটি শিল্পকারখানার শেডের কাছেও আরও কয়েকজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
এছাড়া ফারদিস, কারাজ এবং পূর্ব তেহরানের আলঘাদির হাসপাতাল থেকে পাঠানো ভিডিওতেও একাধিক মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসব দৃশ্য ইঙ্গিত দেয়, কেবল নির্দিষ্ট কোনো শহরেই নয়, যেখানে বিক্ষোভ চলছে সেখানেই নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলের শহর রাশতের এক চিকিৎসক ইরান ইন্টারন্যাশনালকে জানিয়েছেন, শুধু একটি হাসপাতালেই অন্তত ৭০টি মরদেহ আনা হয়েছে। সূত্রের বরাতে আরও বলা হয়েছে, তেহরানের বিভিন্ন অংশ ও কারাজের ফারদিস এলাকায় সহিংসতা সবচেয়ে বেশি, তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক গুলি বর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সাধারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থায় ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে কিছু ভিডিও ও তথ্য বাইরে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। এসব ভিডিওতে একাধিক স্থানে হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ পড়ে থাকার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে পাওয়া তথ্য ও দৃশ্যমান প্রমাণের ভিত্তিতে বলা যায়, ইরানে চলমান দমন অভিযানে মানবিক সংকট ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
১১৩ বার পড়া হয়েছে