পাবনা-১ ও ২ আসনে ভোট কার্যক্রম স্থগিত
শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ৭:২৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতায় আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে পাবনার দুটি সংসদীয় আসনে ভোটের সব কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
শুক্রবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে এখনই কোনো ধরনের নির্বাচন কার্যক্রম চালানো যাবে না। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই দুই আসনে ভোট সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে গেজেট প্রকাশ করে। ওই গেজেট অনুযায়ী সাঁথিয়া উপজেলাকে নিয়ে পাবনা-১ এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়।
এই পুনর্বিন্যাসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেড়া উপজেলার জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার আবু সাঈদ হাই কোর্টে পৃথক রিট দায়ের করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর রুল জারি করে হাই কোর্ট এবং ১৮ ডিসেম্বর রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় দেয়।
রায়ে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে দুই আসনকে আগের সীমানায় পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশোধিত গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন ২৪ ডিসেম্বর সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করে। সেখানে সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভাসহ চারটি ইউনিয়ন নিয়ে পাবনা-১ এবং বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন ও পুরো সুজানগর উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসনের সীমানা দেখানো হয়।
তবে হাই কোর্টের এই রায় স্থগিত চেয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং নির্বাচন কমিশন আলাদাভাবে আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হয়। ৫ জানুয়ারি শুনানি শেষে আপিল বিভাগ নির্বাচন কমিশনের ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত করে।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়, লিভ টু আপিল দায়ের না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। ফলে ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আগের গেজেট কার্যত বহাল হয়ে যায়।
সীমানা সংক্রান্ত এই আইনি জটিলতার কারণে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোটের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এই মুহূর্তে ওই দুই আসনে কোনো ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করছে না কমিশন।
তবে দেশের বাকি ২৯৮টি আসনে নির্বাচন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থীদের আপিল গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে এবং শনিবার থেকে আপিল নিষ্পত্তি শুরু করবে নির্বাচন কমিশন।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর। তিনশ আসনে মোট আড়াই হাজারের বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে, যার মধ্যে বাছাই প্রক্রিয়ায় ৭২৩টি মনোনয়ন বাতিল হয়।
১৪১ বার পড়া হয়েছে