সর্বশেষ

জাতীয়ইসিতে চলছে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে শেষ দিনের আপিল
পাবনা-১ ও ২ আসনে ভোট কার্যক্রম স্থগিত
ট্রলারের ধাক্কায় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত, ঢাকায় তীব্র গ্যাস সংকট
সারাদেশঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসে আগুন: ৪ জন নিহত
নাটোরের সিংড়ায় বিএনপি নেতা কুপিয়ে আহত: ধানের শীষের প্রার্থী আনুসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
যশোরে শীতের তীব্র প্রভাব: এক দিনে ১০ জনের মৃত্যু
রংপুর ও রাজশাহীতে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে কুয়াশা ও শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে
কুতুবদিয়ায় ট্রলারডুবি: দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার
মীরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনা, নৌবাহিনীর সদস্যসহ নিহত ৩
পটুয়াখালীর প্রবীণ সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম রিপন আর নেই
আন্তর্জাতিকপাকিস্তানে ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, আতঙ্ক ছড়াল দেশজুড়ে
ইরানে বিক্ষোভের মাঝে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি
ফিলিপিন্সে বর্জ্যস্তূপ ধসে নিহত ১, নিখোঁজ ৩৮
খেলাসুপার কাপের ফাইনালে বার্সেলোনা, বিলবাওকে ৫–০ গোলে বিধ্বস্ত করল ফ্লিকের শিষ্যরা
সারাদেশ

আবর্জনা থেকেই সোনা ফলাচ্ছেন জয়পুরহাটের কৃষক রাজ্জাক

আলমগীর চৌধুরী, জয়পুরহাট
আলমগীর চৌধুরী, জয়পুরহাট

বৃহস্পতিবার , ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
উচ্ছিষ্ট আবর্জনা, মুরগির বিষ্ঠা, গোবর ও তামাকের গুড়া- যা একসময় ছিল অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য, সেই উপাদান দিয়েই দানাদার জৈব সার উৎপাদন করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন জয়পুরহাটের কৃষক উদ্যোক্তা আব্দুর রাজ্জাক।

তার তৈরি ‘রাজ্জাক ট্রাইকোডার্মা জৈব সার’ বর্তমানে জেলার বিভিন্ন বাজারে ৪০ কেজির বস্তা প্রতি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার প্রত্যন্ত বজরপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক ছোটবেলা থেকেই একজন পরিশ্রমী ও সচেতন কৃষক হিসেবে পরিচিত। তার উদ্যোগী মনোভাব দেখে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাকস ফাউন্ডেশন তাকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। রাজ্জাক ও তার স্ত্রী রাজিয়াকে বজরপুর মহিলা সংস্থার সদস্যভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে গত বছরের শুরুতে নিজ বাড়ির পরিত্যক্ত জায়গায় তিনি দানাদার জৈব সার উৎপাদনের একটি বৈদ্যুতিক কারখানা স্থাপন করেন।

পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর কৃষি ইউনিটের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা এবং জাকস ফাউন্ডেশনের সার্বিক সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এই কারখানায় বিভিন্ন জৈব উপাদান প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হচ্ছে ট্রাইকোডার্মা সমৃদ্ধ জৈব সার। প্রতি শতক জমিতে মাত্র তিন কেজি সার ব্যবহারেই মাটি শোধনসহ জমির উর্বরতা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

স্বল্পমূল্যের এই জৈব সার ব্যবহারে ফসল উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের রাসায়নিক সারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও জমি মুক্ত হচ্ছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই রাজ্জাকের তৈরি সার কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বর্তমানে মাত্র তিনজন কর্মচারী নিয়ে পরিচালিত এই কারখানা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করছেন উদ্যোক্তা আব্দুর রাজ্জাক। ভবিষ্যতে উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে আয় আরও বাড়বে বলে আশাবাদী তিনি।

উদ্যোক্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, শুরুতে দানাদার জৈব সার সম্পর্কে তার খুব বেশি ধারণা ছিল না। জাকস ফাউন্ডেশনের পরামর্শ ও সহায়তায় তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে কারখানা স্থাপন করলেও বর্তমানে নিয়মিত লাভের মুখ দেখছেন তিনি।

জাকস ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে জমির গুণগত মান মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। জৈব সার জমির পুষ্টি ও উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গ্রামীণ পর্যায়ে এমন উদ্যোক্তা তৈরি হলে কৃষকরা জৈব সারের উপকারিতা সম্পর্কে আরও সচেতন হবেন।

জয়পুরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাফসিয়া জাহান বলেন, আধুনিক কৃষিতে ট্রাইকো কম্পোস্ট ও ভারমি কম্পোস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জৈব সার। ট্রাইকোডার্মা একটি উপকারী ছত্রাক যা মাটি শোধন করে এবং ফসল উৎপাদনে সহায়তা করে। গ্রাম পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরি হলে নিরাপদ ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

১৭৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন