গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ আ’লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পদত্যাগ অব্যাহত
বৃহস্পতিবার , ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জ জেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পদত্যাগের প্রবণতা থামছেই না।
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অন্তত তিন শতাধিক নেতাকর্মী দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন। পদত্যাগের হার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে মুকসুদপুর, কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলায়। এরপর রয়েছে গোপালগঞ্জ সদর ও কাশিয়ানী উপজেলা।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি বাইন এবং গোপালপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল মন্ডল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর, ভাবড়াশুড় ও বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ৫০ জন নেতা পদত্যাগ করেন। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের বনগ্রাম ও গোহালা ইউনিয়নের সিন্দিয়াঘাট এলাকায় এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ১৪ জন নেতা দল ছাড়ার ঘোষণা দেন।
৩ জানুয়ারি টুঙ্গিপাড়ার তিন নেতা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়ার একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করেন। ২৭ ডিসেম্বর পিঞ্জুরী ইউনিয়নের ১৭ জন নেতা ঘাঘর বাজারে বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পদত্যাগের পাশাপাশি বিএনপিতে যোগ দেন।
এছাড়া ২৩ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়া উপজেলার তিন নেতা ও মুকসুদপুরের খান্দারপাড় ইউনিয়নের ১৪ জন নেতা, ২২ ডিসেম্বর একই ইউনিয়নের আরও ৯ জন এবং ২০ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ার ১৩ জন ও মুকসুদপুরের দক্ষিণ জলিলপাড় এলাকার ১০ জন নেতা দল ছাড়েন।
পদত্যাগকারী নেতারা জানান, তারা স্বেচ্ছায় ও সচেতনভাবে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ-পদবি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও দলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখবেন না। কেউ কেউ শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগের কথা জানান। আবার কয়েকজন বলেন, তারা যে পদে ছিলেন তা আগে জানতেন না, বিষয়টি জানতে পারার পরই পদত্যাগ করেছেন।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, ৫ আগস্টের পর গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় সংঘটিত কয়েকটি ঘটনায় অন্তত দুই ডজন মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় নাম ও বেনামে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে এবং এর মধ্যে অন্তত ৫ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার ভয় ও গ্রেপ্তারের আতঙ্কেই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পদত্যাগ করছেন বলে তাদের দাবি।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকুজ্জামান বলেন, 'আওয়ামী লীগের কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ডের কারণে দলটির প্রতি আস্থা হারিয়ে অনেকেই পদত্যাগ করছেন। আবার অনেকে মনে করছেন, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করবে-সে কারণেও সরকারি দলের সঙ্গে থাকার আশায় দল ছাড়ছেন। তবে আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা বদনাম নেই, তারা বিএনপিতে আসতে চাইলে তাদের সাদরে গ্রহণ করা হবে।'
১২১ বার পড়া হয়েছে