কুড়িগ্রামে তীব্র শীতে স্থবির জনজীবন, বাড়ছে শীতজনিত রোগী
বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ৮:২৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র শীত ও ঠান্ডায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত নানা রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে কাঁপুনি বেড়েই চলেছে। কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছিল না, আজ মাঝে মাঝে সূর্য উঁকি দিলেও আবার আড়াল হয়ে যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কষ্ট যেন আরও বেড়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের চর রাউলিয়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, খড়ের ঘরে থাকার কারণে রাত-দিন ঠান্ডা বাতাস হুহু করে ঢুকে পড়ছে। পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে তার।
নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের রিকশাচালক নুরুল হক বলেন, সকালে ঠান্ডার কারণে রিকশা নিয়ে বের হতে পারছেন না। ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। একই দুর্ভোগের কথা জানান কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কলেজ মোড়ের পান ব্যবসায়ী দুলুমিয়া। তিনি বলেন, ঠান্ডার কারণে ক্রেতা না থাকায় পান বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এছাড়া সদর উপজেলার ২ নম্বর কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের মিনহাজুল বলেন, এই শীতে চায়ের দোকানে কাজ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
শীতের প্রকোপে জেলায় সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, আমাশয় ও ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস জানান, প্রতিদিনই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, বুধবার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
এদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় এ পর্যন্ত ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া জরুরি সহায়তার জন্য ৪০ লাখ টাকা নগদ মজুদ রয়েছে বলে জানান তিনি।
১৬৫ বার পড়া হয়েছে