জামালপুরে শৈত্যপ্রবাহে বোরো বীজতলা ঝুঁকিতে, দুশ্চিন্তায় কৃষক
মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:১৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় টানা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। গত দুই সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা কম থাকায় এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোক না পাওয়ায় অনেক বীজতলার চারা হলুদ ও ফ্যাকাশে রং ধারণ করেছে। এতে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বীজতলার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও চারা ঠিকমতো গজাচ্ছে না, আবার গজালেও দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে জমিতে চারা রোপণ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তবে উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, এখনো বোরো বীজতলা মারাত্মক ক্ষতির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমির জন্য ৭৬৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যেসব কৃষক আগাম বীজতলা প্রস্তুত করেছেন, সেসব বীজতলায় এখনো তেমন কোনো সমস্যা দেখা যায়নি।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে অনেক বীজতলার স্বাভাবিক সবুজ রং নষ্ট হয়ে হলুদ ও ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। বীজতলা রক্ষায় কৃষকেরা নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। কেউ পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখছেন, কেউ আবার ছাই ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করছেন। তবুও ক্ষতির আশঙ্কা কাটছে না।
মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালী গ্রামের কৃষক মো. আজিজ জানান, তিনি ১৪ শতাংশ জমিতে ব্রি-ধান–৮৯ জাতের বীজ বপন করেছেন। কিন্তু তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে চারা ঠিকমতো গজাচ্ছে না, আর যেগুলো উঠেছে সেগুলোর রং হলুদ হয়ে গেছে।
একই গ্রামের আরেক কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, উন্নত জাতের বীজ দিয়ে বীজতলা তৈরি করলেও ঘন কুয়াশা ও প্রচণ্ড শীতে চারাগাছের রং ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। কুয়াশা থেকে রক্ষায় পলিথিন ব্যবহার করেও আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না তিনি।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু বীজতলায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিলেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। কুয়াশাজনিত ক্ষতি কমাতে কৃষকদের পলিথিনের ছাউনি ব্যবহার, সঠিক সেচ ও পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বীজতলার চারা সাময়িকভাবে ফ্যাকাশে হলেও আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে তা কাটিয়ে উঠবে এবং এতে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।
১৮৮ বার পড়া হয়েছে