ভারতের ম্যাচ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে বিসিবি, ঘনীভূত সংকট
সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ৩:১৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যেন অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজিত এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। সূচি অনুযায়ী, ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনে এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতকে নিরাপদ মনে করছে না বিসিবি।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাটি বড় ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজকে দল থেকে ছেড়ে দেয়। ভারতের কয়েকটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় সংগঠনের হুমকি ও প্রতিবাদের মুখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিসিবির পাঠানো ই-মেইলে বলা হয়েছে, ভারতের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে বোর্ড সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, এই অবস্থায় জাতীয় দলকে ভারতে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ।
এর আগে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ একাধিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। প্রথমে কড়া অবস্থানে না যাওয়ার পক্ষে মত থাকলেও, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ ও সরকারি পর্যায়ের নির্দেশনার পর জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত বদলায় বোর্ড।
অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ‘উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে নতি স্বীকার’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বিসিবিকে আইসিসির কাছে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেন এবং বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানাতে বলেন।
একই সুরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তাঁদের মতে, খেলাধুলার ভেতরে রাজনীতি টেনে আনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখানো ছাড়া বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালও এই সিদ্ধান্তের সমর্থনে মত দিয়েছেন। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান বলেন, খেলোয়াড়েরা মানসিকভাবে স্বস্তিতে না থাকলে ভালো পারফরম্যান্স আশা করা যায় না।
ভারতে মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ার বিরোধিতা করে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিক শাহরুখ খানকেও কটূক্তি করা হয়। এসব ঘটনার জেরেই শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয় বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে ভারতের ভেতরেও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুর প্রশ্ন তুলেছেন, খেলাধুলাকে এভাবে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় রঙে রাঙানোর পরিণতি কী হতে পারে।
বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র এক মাস বাকি থাকায় সূচি পরিবর্তন করা কঠিন হলেও রাজনৈতিক বাস্তবতায় আগেই পাকিস্তানের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বিসিবির আশা, আইসিসি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে