দৌলতপুরে র্যাবিস ভ্যাকসিনের চরম সংকট, আতঙ্কে কামড়ে আহত রোগীরা
রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ব্যবহৃত র্যাবিস ভ্যাকসিনের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে।
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারের সরবরাহ করা কোনো ভ্যাকসিন নেই। একই সঙ্গে বেসরকারি ফার্মেসিতেও প্রয়োজনীয় এই টিকা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আহত হয়ে প্রতিদিন রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসলেও ভ্যাকসিনের অভাবে তাদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই বাধ্য হয়ে বেসরকারি ফার্মেসিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু সেখানেও টিকা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোথাও কোথাও সীমিত পরিসরে ভ্যাকসিন পাওয়া গেলেও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে তা বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। ভ্যাকসিন না পাওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, কুকুর বা বিড়ালের কামড়ের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে র্যাবিস ভ্যাকসিন গ্রহণ না করলে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। ফলে সময়মতো টিকা না পাওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
র্যাবিস ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইন্সেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের দৌলতপুর উপজেলা এরিয়া ম্যানেজার ইব্রাহিম হোসেন জানান, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় বর্তমানে সারাদেশেই ভ্যাকসিনের সংকট চলছে। উৎপাদন স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তার মতে, দৌলতপুর উপজেলায় মাসে গড়ে প্রায় এক হাজার ভায়াল র্যাবিস ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়।
মথুরাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হুসাইন আহমেদ বলেন, বিড়ালের কামড়ে আহত হওয়ার পর তার স্ত্রীর জন্য বিভিন্ন ফার্মেসিতে ভ্যাকসিন খুঁজেও কোথাও পাননি। পরে বাধ্য হয়ে একটি মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে তিনটি ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে হয়েছে।
আরেক ভুক্তভোগী টুম্পা খাতুন জানান, তার মাকে বিড়ালে কামড় দেওয়ার পর হাসপাতালে এবং ফার্মেসিতে খুঁজেও ভ্যাকসিন না পাওয়ায় পরিবারটি চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
দৌলতপুর ফার্মেসি মালিক সমিতির সভাপতি আজমল হোসেন বলেন, বেসরকারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কম এবং এই মৌসুমে কামড়ের ঘটনা বাড়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে কুকুর ও বিড়ালের প্রজনন মৌসুমে ঝুঁকি বেশি থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই সরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিনের সংকট শুরু হয়। তিন মাস পর মাত্র ৩০০ ভায়াল পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। তিনি বলেন, একজন রোগীর চিকিৎসায় গড়ে ৪ থেকে ৫টি ভায়াল প্রয়োজন হয়। সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়টি উপজেলা পর্যায়ের মাসিক সভায় আলোচনা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এই সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাস্থ্যসেবাগ্রহীতারা।
১২৭ বার পড়া হয়েছে