এনসিপিতে নেতৃত্ব সংকট, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একের পর এক পদত্যাগ
শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ৩:২৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতার সিদ্ধান্তের পর থেকেই দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ভাঙন শুরু হয়। এ পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন, আর অনেকে পদত্যাগ না করলেও দলীয় কার্যক্রম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্তকে আদর্শবিরোধী ও রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন এনসিপির একটি বড় অংশ। এ সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছায়। এর ধারাবাহিকতায় একের পর এক শীর্ষ নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
বৃহস্পতিবার রাতে এনসিপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, মুখপাত্র, যুগ্ম সদস্য সচিব ও মিডিয়া সেলের প্রধান মুশফিক উস সালেহীন সব ধরনের পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ করেন। একই দিনে পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন। এর আগে ১ জানুয়ারি পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ উইংয়ের প্রধান খালেদ সাইফুল্লাহ।
খালেদ সাইফুল্লাহর স্ত্রী, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ২৮ ডিসেম্বর দল থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি ঢাকা-৯ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। পদত্যাগের পর তিনি ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অধিকাংশকে উপেক্ষা করা হয়েছে। দলের ‘বিশেষ’ দুই শীর্ষ ব্যক্তির সিদ্ধান্তেই জোট চূড়ান্ত হয় বলে দাবি করছেন তারা। এতে নতুন ধারার রাজনীতির যে প্রত্যাশা নিয়ে এনসিপি গঠিত হয়েছিল, তা ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন পদত্যাগকারীরা।
এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সম্পৃক্ত শহীদ পরিবার ও আহতদের মধ্যেও হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত দলটি এখন সেই চেতনা থেকে সরে যাচ্ছে। শহীদ পরিবারগুলোর প্রত্যাশা পূরণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এনসিপির একাধিক নেতার ভাষ্য, সামনে আরও পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে যারা পদত্যাগ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন—তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন, ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, আরিফ সোহেল, আজাদ খান ভাসানী, আসিফ নেহাল, মীর হাবিব আল মানজুর, মারজুক আহমেদ, মীর আরশাদুল হক, খালেদ সাইফুল্লাহ, খান মো. মুরসালীন, মুশফিক উস সালেহীন, ওয়াহিদুজ্জামান ও আল আমিন টুটুল।
এ বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এর আগে সাংবাদিকদের বলেন, দলে থাকা বা নির্বাচনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্যের পরই দল থেকে পদত্যাগের সংখ্যা আরও বেড়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপির জন্য এ ধরনের ভাঙন বড় ধরনের ধাক্কা। বিশেষ করে জামায়াত ইস্যুতে নারী নেতৃত্বের একটি বড় অংশ সরে যাওয়ায় দলটির সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। দ্রুত সংকট মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এনসিপি রাজনৈতিকভাবে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে