এবার জেঁকে বসেছে শীত, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে
শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ৩:২১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নতুন বছরের শুরুতেই দেশের ওপর জেঁকে বসছে তীব্র শীত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশে চার থেকে পাঁচ দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার হতে পারে, যখন দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।
শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে জানুয়ারি মাসের আবহাওয়ার এই পূর্বাভাস জানানো হয়। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি এবং এক থেকে দুটি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার জেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি অনুভূত হতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা অনেক সময় দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গিয়ে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানান, জানুয়ারি মাসে দিনের ও রাতের গড় তাপমাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক থাকার কথা থাকলেও শৈত্যপ্রবাহের সময় জনজীবনে স্থবিরতা দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি বা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে। আর মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে তা নেমে যেতে পারে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার দেশের তাপমাত্রা সাময়িকভাবে কিছুটা বাড়তে পারে। তবে রোববার থেকে আবার তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল দেশের সাতটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ১৭ জেলায় শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব ছিল।
গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে—৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়া অন্য জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা।
আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানান, শৈত্যপ্রবাহের বিস্তৃতি আপাতত কিছুটা কমলেও এ ধারা স্থায়ী নাও হতে পারে। রোববার থেকে আবার শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে যশোরে টানা শীতের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। শীতের দাপটে শহর ও গ্রামাঞ্চলে শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। কাজের সন্ধানে বের হলেও অনেকেই কাজ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে পঞ্চগড়ে দ্বিতীয় দিনের মতো মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। শনিবার সকালে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করে। যদিও দিনের তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকলেও সকালে ও রাতে শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপের আশঙ্কা নেই।
১১৯ বার পড়া হয়েছে