দৌলতপুরে যাতায়াতের পথ বন্ধ, নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ ২০টি পরিবার
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা চলাচলের একমাত্র রাস্তা বাঁশের রেলিং দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এতে নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে বসতি গড়া ১৮ থেকে ২০টি পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। প্রায় এক মাস ধরে চলা এ পরিস্থিতিতে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ স-মিলপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ১৮ থেকে ২০টি পরিবারের সদস্যরা। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় তাঁদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে এ অবস্থা চললেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, প্রায় ২৫ বছর আগে পদ্মা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে তাঁরা স্থানীয় আরজেত আলী ও তাঁর ভাইদের কাছ থেকে জমি কিনে বাড়িঘর নির্মাণ করেন। জমি বিক্রির সময় আরজেত আলী তাঁদের জমির পাশ দিয়ে ছয় ফুট প্রশস্ত একটি চলাচলের রাস্তা নির্ধারিত আছে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে পরিবারগুলো প্রায় ২৫ বছর ধরে ওই পথ ব্যবহার করে আসছিল।
সম্প্রতি পাশের জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলে স্থানীয় হিটু ও তাঁর লোকজন প্রভাব খাটিয়ে চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে বাঁশ দিয়ে রেলিং তৈরি করে রাস্তাটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে পরিবারগুলোর সদস্যদের স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি জমির বিক্রেতা আরজেত আলীকে জানানো হলেও তিনি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। পরে চলাচলের সুবিধার্থে জমি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জমির কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।
ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে যাতায়াতের রাস্তা দেখিয়েই তাঁদের কাছে জমি বিক্রি করা হয়েছিল। এত দিন তাঁরা ওই রাস্তা ব্যবহার করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি পাশের জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলে তাঁদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। চলাচলের সুবিধার্থে জমি কিনে নিতে চাইলেও জমির কাগজপত্র দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জহুরা খাতুন বলেন, দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা প্রায় এক মাস ধরে বাঁশের রেলিং দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে তাঁদের চলাচলে চরম অসুবিধা হচ্ছে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হিটু বলেন, ‘আমরা জমি বায়না করেছি। বায়নাসূত্রে জমিটি দখলে নিয়েছি।’ তাঁর কাছে বায়নানামা দেখতে চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। তবে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এলাকাবাসী জানান, রাস্তা বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হওয়া এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত পথটি বন্ধ থাকায় এ নিয়ে যেকোনো সময় বিরোধ ও সংঘাতের আশঙ্কা করছেন তাঁরা। দ্রুত রাস্তা খুলে দিয়ে স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ পরিস্থিতিতে চলাচলের রাস্তা পুনরুদ্ধার ও স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছেও প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন তাঁরা।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ দিয়ে থাকলে তাঁদের আমার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা করব।’
দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
১২২ বার পড়া হয়েছে