সৌরবিদ্যুতে নিম্নমানের উপকরণ ঠেকাতে স্পেসিফিকেশন চূড়ান্ত: প্রতিমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় মানসম্মত উপকরণ নিশ্চিত করতে আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় স্পেসিফিকেশন চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, নিম্নমানের উপকরণ যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করছে।
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়াতে বাসাবাড়ি ও স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব ব্যবস্থায় ব্যবহৃত সৌরবিদ্যুতের উপকরণের মান কেমন হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মেহেরপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুতের মানসম্মত উপকরণ আমদানি নিশ্চিত করতে স্পেসিফিকেশন চূড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ কোন মানের উপকরণ আমদানি করা যাবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিম্নমানের উপকরণ যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
রুফটপ সোলার স্থাপনের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উপকরণের মান যাচাই করে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বাসায় ফ্রিজ বা টেলিভিশন কেনার সময় মানুষ যেমন বিভিন্ন জায়গা থেকে খোঁজখবর নিয়ে ভালো পণ্য কেনেন, তেমনি বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের সময়ও উপকরণের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকারী ব্যক্তি হোক বা সরকারি প্রতিষ্ঠান—মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের রয়েছে।
মেহেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ যেসব প্রতিষ্ঠান চালু হয়নি, সেগুলো দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবা খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চায় সরকার।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জেলার উপজেলা ও হাসপাতালগুলোতে অনেক পদ থাকলেও সেসব পদে এখনো পদায়ন হয়নি। একইভাবে স্কুল-কলেজেও শিক্ষক সংকট রয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না এবং শিক্ষা খাতেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। এসব পদ দ্রুত পূরণ করা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সেবার মান বাড়ানো সম্ভব হবে।
মেহেরপুর জেলার উন্নয়নে পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোর বিষয়েও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কেটে গেলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল বা কমে এলে দেশের বাজারেও দ্রুত মূল্য সমন্বয়ের চেষ্টা করা হবে বলে জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী।
এক দিনের সফরে বৃহস্পতিবার সকালে সড়কপথে কুষ্টিয়া থেকে মেহেরপুরে যান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বিকেলে তাঁর মেহেরপুর জেলা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
১৩২ বার পড়া হয়েছে