সর্বশেষ

সারাদেশ

জ্বালানির দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:৩৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও এর কারণে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও এর প্রভাব যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে বড় ধরনের চাপ তৈরি না করে, সে বিষয়ে সরকার নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটে চা-শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে সরকার নির্ধারিতভাবে দাম সমন্বয় করে থাকায় এখানকার মানুষ মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি আলাদাভাবে দেখতে পান।

তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যাতে অন্য পণ্যের ওপর না পড়ে এবং মূল্যস্ফীতি না বাড়ে, সে জন্য সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়সহ পণ্য সরবরাহের খরচ বাড়তে পারে। সরবরাহব্যবস্থার কোথাও অসংগতি তৈরি হলে তার প্রভাব বাজারদরে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে সরকার এসব জায়গা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দুই দিন আগেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আমদানিকারক ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে একটি বড় সভা হয়েছে। ওই সভায় পণ্য আমদানি, পরিবহন ও বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তিনি বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের যেখানে যেখানে অসংগতি রয়েছে, সেগুলোর দিকে সরকার নজর দিচ্ছে। এসব সমস্যা দূর করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাব্য অভিঘাত মোকাবিলায় কাজ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি গ্যাস সরবরাহে তৈরি হওয়া সংকটও এখন কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কয়েক দিন গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হয়েছিল। বর্তমানে সেই সমস্যা নেই।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় আমদানি করা বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেশে প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলোও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে বলে জানান তিনি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চিনি ও সয়াবিনসহ যেসব আমদানি করা পণ্য দেশে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, সেসব কারখানা এখন পূর্ণ উদ্যমে উৎপাদন করছে। ফলে এসব পণ্যের সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

তিনি বলেন, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা গেলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তাঁর ভাষায়, ‘মূল্য ইনশা আল্লাহ স্থিতিশীল থাকবে এবং মূল্যের ওপর সেরকম লক্ষণীয় কোনো অভিঘাত ইনশা আল্লাহ আসবে না।’

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে বিশ্বের অনেক দেশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব দেশে জ্বালানির দাম পরিবর্তিত হয়।

তিনি বলেন, অনেক দেশেই আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বাড়লে স্থানীয় বাজারে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় হয়। সকালে জ্বালানির মূল্য পরিবর্তনের বিষয়টি মানুষ দেখতে পায়।

বাংলাদেশে সরকার জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে বলে এখানকার মানুষের কাছে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সরাসরি দৃশ্যমান হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকারের অন্যতম উদ্বেগ হলো এর দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রভাব। অর্থাৎ পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে গিয়ে তা যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অতিরিক্ত মূল্যচাপ তৈরি না করে।

এ জন্য আমদানিকারক, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সরবরাহব্যবস্থার দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মুক্তাদির বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব একটি খাত থেকে অন্য খাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি বাজারে পর্যাপ্ত পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের ওপর যেন অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়, সরকার সেটি নিশ্চিত করতে চায়। এ লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, ফয়সল আহমদ চৌধুরী, মাহবুব কাদির শাহী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম, যুগ্ম সম্পাদক জাহেদ আহমদ, টুকেরবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, চা-বাগান ব্যবস্থাপক, শ্রমিক প্রতিনিধি ও এলাকাভিত্তিক বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

১০৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০