বিএসএফের হাতে আটক ৫ বাংলাদেশি মুক্ত, এমপির উদ্যোগে ফিরলেন দেশে
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:১৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক হওয়ার দীর্ঘ ১১ দিন পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাঁচ বাংলাদেশি। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদের বিশেষ কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগে শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা বিজিবি ক্যাম্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করায় তাদের আটক করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভারতের সাগরপাড়া সীমান্তের বিএসএফ ক্যাম্প থেকে ওই পাঁচ বাংলাদেশিকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর তারা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সীমান্তে তাদের স্বাগত জানান রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ। পরবর্তীতে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
দেশে ফেরা ব্যক্তিরা হলেন—আলাইপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মোশাররফ হোসেন, সাহাবুল আলী, বাবর আলী, সাইফুল ইসলাম ও আশাদুল ইসলাম। এদের মধ্যে প্রথম তিনজন পেশায় পাট ব্যবসায়ী এবং বাকি দুজন নৌকার মাঝি ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে কুষ্টিয়ার বাংলাবাজার চর থেকে পাট কিনে নৌকাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। তবে পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতে পথ হারিয়ে তাদের নৌকাটি ভুলবশত ভারতীয় সীমানার প্রায় আড়াই কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়ে। এ সময় টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
আটকের পরপরই বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকায় তাত্ক্ষণিকভাবে তাদের ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানতে পেরে সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয়, বিজিবি কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বিত যোগাযোগ শুরু করেন।
দীর্ঘ কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতার পর অবশেষে তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের সময় এমপি আবু সাইদ চাঁদ বলেন, নিজ এলাকার প্রতিটি নাগরিক তাঁর কাছে সন্তানের মতো। নদীগর্ভে দিক হারিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিপদে পড়া নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
৩৩৪ বার পড়া হয়েছে