‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধনে কাল টাঙ্গাইল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, উৎসবমুখর পরিবেশ
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:২৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আগামীকাল ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইল সফরে আসছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
কৃষক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে তার এ সফরকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এটি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয় জেলা সফর এবং টাঙ্গাইলে তার প্রথম আগমন।
সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি সকাল ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সকাল ১০টায় সন্তোষে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত করবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সারাদেশব্যাপী প্রি-পাইলটিং ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং কৃষক সমাবেশে ভাষণ দেবেন। পরে দুপুর সোয়া ১২টায় পৌর উদ্যানে ‘কৃষি মেলা’র উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শহরের রাস্তা-ঘাট সংস্কার, গেট ও তোরণ নির্মাণসহ ব্যাপক সাজসজ্জার কাজ চলছে। স্টেডিয়ামে মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার বিভিন্ন স্টল নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া সার্কিট হাউজ, স্টেডিয়াম ভবন ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। শহরের রাস্তার দু’পাশে রঙিন পতাকা দিয়ে সাজানো হচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন জানান, দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তাকে স্বাগত জানাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই এলাকা থেকে রাস্তার দুই পাশে নেতাকর্মীদের অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করবেন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করবেন।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, সফরকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সরাসরি ১৫ জন কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির ভেন্যুগুলোতে চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত টাঙ্গাইল সদরের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুক বলেন, অনুষ্ঠানকে সফল করতে ইতোমধ্যে সমন্বয় সভা ও ভেন্যু পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে ধারণ করে এই আয়োজন সাজানো হয়েছে এবং এটি স্মরণীয় একটি অনুষ্ঠান হবে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১০টি উপজেলায় প্রি-পাইলটিং হিসেবে মোট ৩৫ হাজার কৃষককে এই কার্ড প্রদান করা হবে। উদ্বোধনের দিন টাঙ্গাইলে ১৫ জন কৃষক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি কার্ড গ্রহণ করবেন। একই সময়ে দেশের আরও ৯টি স্থানে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চলবে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের নিয়োগী জোয়াইর গ্রামের কৃষক মো. নবাব আলী বলেন, “জীবনে যা আশা করিনি, সেই কৃষক কার্ড পাচ্ছি। আমি খুবই খুশি ও গর্বিত।” একই এলাকার সুরুজ পূর্বপাড়া গ্রামের কৃষাণী জুলেখা আক্তার বলেন, “ছোটবেলা থেকে কৃষিকাজ করি, কখনো সরকারি সহায়তা পাইনি। এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কার্ড পাবো—এতে আমি খুব আনন্দিত।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আশেক পারভেজ জানান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ ব্লকে ১ হাজার ৪৫৩ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি প্রণোদনা, কৃষি ঋণ, কৃষি বীমা, উপকরণ ক্রয়-বিক্রয়সহ ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। কার্ডটি ব্যাংকের ভিসা কার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে এবং উদ্বোধনের দিনই প্রণোদনার অর্থ কার্ডে জমা হবে।
স্থানীয়রা জানান, কৃষকদের উন্নয়নে এ উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পহেলা বৈশাখের দিনে এমন একটি কর্মসূচির উদ্বোধন টাঙ্গাইলবাসীর জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। কৃষকদের মাঝে ইতোমধ্যেই আনন্দ ও প্রত্যাশার জোয়ার বইছে।
১৫০ বার পড়া হয়েছে