ময়মনসিংহে অবহেলায় নষ্ট রেলের সম্পদ, দখলে যাচ্ছে জমি—স্থায়ী সমাধানের দাবি
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রেলওয়ের কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিত্যক্ত রেললাইন, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী মাটির নিচে চাপা পড়ে অকেজো হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে রেলওয়ের বিস্তীর্ণ জায়গা দখল করে গড়ে উঠছে অবৈধ দোকানপাট, হাটবাজার ও বসতঘর।
জানা যায়, নতুন রেললাইন স্থাপনের উদ্যোগ না নিয়ে বরং অনেক পুরনো রেললাইন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে এসব লাইন মাটির নিচে চাপা পড়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা যন্ত্রাংশে জং ধরে নষ্ট হচ্ছে, চুরি হচ্ছে বিভিন্ন মালামালও।
শহরের পাটগুদাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে পুরনো রেললাইন। একসময় এই পথে ট্রেন চলাচল করলেও এখন তা সম্পূর্ণ অচল। এই সুযোগে রেললাইনের ওপর গড়ে উঠেছে দোকানপাট, নার্সারি ও বসতঘর। মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পর আবারও দখল হয়ে যায় এসব জায়গা।
একজন দখলকারী জানান, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকায় তারা সেখানে দোকান গড়ে তুলেছেন। তবে কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলে তারা সরে যাবেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, রেললাইনের পাশ দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। সে সময় অবৈধ স্থাপনাগুলো সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা থেমে যায়। পরে আবার দখল শুরু হয়।
একই চিত্র দেখা গেছে মিন্টু কলেজ সংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকাতেও। সেখানে রেললাইন ভরাট করে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে এবং তার ওপর গড়ে উঠেছে চায়ের দোকান ও কাঁচাবাজার। দীর্ঘদিন ধরে এসব দখলদারিত্ব চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
এদিকে, রেলের পরিত্যক্ত বগিগুলোতে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
জেলা নাগরিক আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক শিব্বির আহমেদ লিটন বলেন, একসময় ময়মনসিংহে রেল যোগাযোগের ব্যাপক সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে তা আজ স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি শহরের বাইরে আধুনিক বিভাগীয় রেলস্টেশন নির্মাণ, ডাবল ব্রডগেজ লাইন স্থাপন এবং পরিত্যক্ত সম্পদ কাজে লাগানোর দাবি জানান।
পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, রেলের সম্পদ নষ্ট হলেও কর্তৃপক্ষ কার্যত নীরব। কেন তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে না, সে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তবে ময়মনসিংহ রেলের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, পুরনো রেললাইন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্থানীয়ভাবে নেই। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, কিছু ক্ষেত্রে মাটির নিচে থাকা রেললাইন বিভিন্ন কাজে পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চলছে।
ময়মনসিংহবাসীর প্রত্যাশা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করে সেগুলো উন্নয়নের কাজে লাগাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে রেল কর্তৃপক্ষ।
১২৫ বার পড়া হয়েছে