কোস্টগার্ড পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস পাগলা স্টেশন ইনচার্জের
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা এলাকায় নিজেকে কোস্টগার্ড স্টেশনের ড্রাইভার পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওমর ফারুক কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে মাছের পোনা বহনকারী গাড়িগুলো পথে থামিয়ে নিজেকে কোস্টগার্ডের ড্রাইভার পরিচয় দেন। এরপর গাড়ি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে চাঁদা দাবি করেন। ব্যবসায়ীরা জানান, টাকা দিলে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হবে, অন্যথায় কোস্টগার্ডের কাছে সোপর্দ করার হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এভাবে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন পরিবহন থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে অভিযুক্তের কথোপকথনের একটি কল রেকর্ডে শোনা যায়, ইতোমধ্যে কয়েকটি গাড়ি আটকানো হয়েছে এবং টাকা দিলে তা ছাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
অন্যদিকে একটি সূত্র দাবি করেছে, পাগলা কোস্টগার্ড স্টেশনের ইনচার্জের সঙ্গে অভিযুক্তের যোগসাজশ থাকতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, গাড়ি আটকে অবৈধভাবে টাকা আদায় এবং মাছ জব্দ করে কম দামে বিক্রির মাধ্যমে অর্থ ভাগাভাগি করা হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত ওমর ফারুক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি পেশায় একজন চালক এবং বর্তমানে নিজের গাড়ি পরিচালনা করেন। কোস্টগার্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে পাগলা কোস্টগার্ড স্টেশনের ইনচার্জ মোহাম্মদ শফিক জানান, ওমর ফারুকের সঙ্গে কোস্টগার্ডের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছেন বলে উল্লেখ করে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এদিকে সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়।
১২৭ বার পড়া হয়েছে