এইউবিতে ‘অন্নদার ভবানন্দ নিবাসে যাত্রা’ শীর্ষক নাট্য মঞ্চস্থ
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:৩৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এইউবি)-এর বাংলা বিভাগের উদ্যোগে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য অবলম্বনে ‘অন্নদার ভবানন্দ নিবাসে যাত্রা’ শীর্ষক একটি নাটিকা মঞ্চস্থ হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) আশুলিয়ার টংগাবাড়ি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে এ নাটিকাটি মঞ্চস্থ হয়। এতে শিক্ষার্থীদের অভিনয় দক্ষতা ফুটে ওঠে। আর ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে এ নাটিকাটি উপভোগ করেন অতিথিবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।
রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র রায় রচিত 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের প্রথম খণ্ডের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও জনপ্রিয় পর্ব হলো ‘অন্নদার ভবানন্দ নিবাসে যাত্রা’। এই অংশে দেবী অন্নপূর্ণা হরিহোড়ের বাড়ি ত্যাগ করে নতুন ভক্ত ভবানন্দ মজুমদারের নিবাসে যাত্রা করেন। যা এই নাটকটির নির্দেশনায় তুলে এনেছেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক সিনথিয়া জাহান বিথুন।
অন্নদামঙ্গল কাব্যের “অন্নদার ভবানন্দ নিবাসে যাত্রা” এর কাহিনী সংক্ষেপ:
অন্নদা দেবীর কৃপায় ভবানন্দ এক সাধারণ অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে সৌভাগ্য ও সম্মানের অধিকারী হয়ে ওঠেন। দেবী অন্নদা তাঁর ভক্তদের প্রতি সদা দয়াশীল; ভবানন্দও তাঁর একনিষ্ঠ ভক্ত হওয়ায় দেবী তাঁকে রক্ষা ও পথপ্রদর্শন করেন। দেবীর নির্দেশ পেয়ে ভবানন্দ নিজের নিবাসে ফিরে যাওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করেন। এই যাত্রা তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে তাঁর ধৈর্য, বিশ্বাস ও সাহসের পরীক্ষা হয়।
যাত্রাপথে ভবানন্দ নানা প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হন। কখনও প্রাকৃতিক বাধা, কখনও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা—সবকিছুই তাঁর পথকে কঠিন করে তোলে। কিন্তু তিনি কখনও ভেঙে পড়েন না। তাঁর মনে দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে দেবী অন্নদা তাঁর সঙ্গে আছেন এবং তাঁকে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন। এই বিশ্বাসই তাঁকে সকল বাধা অতিক্রম করার শক্তি জোগায়।
এ সময় ভবানন্দের চরিত্রের গভীরতা ফুটে ওঠে। তিনি কেবল ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল নন, বরং নিজের কর্ম, সাহস ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমেও সামনে এগিয়ে যান। তাঁর এই যাত্রা কেবল স্থান পরিবর্তন নয়, এটি তাঁর মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশের প্রতীক। জীবনের নানা দুঃখ-কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে তিনি এক নতুন উপলব্ধিতে পৌঁছান—মানুষের জীবনে ভক্তি, সততা ও ধৈর্যই প্রকৃত শক্তি।
অবশেষে বহু কষ্ট ও বাধা পেরিয়ে ভবানন্দ তাঁর নিজ গৃহে পৌঁছাতে সক্ষম হন। সেখানে তিনি শান্তি, স্থিতি ও সম্মান লাভ করেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন যেন তাঁর জীবনের সংগ্রামের সফল পরিণতি। দেবী অন্নদার কৃপায় তাঁর জীবন নতুন অর্থ ও পূর্ণতা পায়।
এই অংশে মূলত দেবীভক্তির মাহাত্ম্য, মানুষের অধ্যবসায়, এবং জীবনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সাফল্য অর্জনের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। ভবানন্দের যাত্রা আমাদের শেখায় যে, দৃঢ় বিশ্বাস ও নিরলস প্রচেষ্টা থাকলে মানুষ যে কোনো বাধা অতিক্রম করে নিজের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।
এই নাট্য প্রদর্শনী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মোহাম্মদ সাদেক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাঈদা আক্তার বেগম এবং আইকিউএসি পরিচালক ড. ইকবাল হোসাইন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রিটা আশরাফ।
নাট্য মঞ্চায়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন, যা পুরো আয়োজনকে করে তোলে প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৩৬১ বার পড়া হয়েছে