সর্বশেষ

অর্থনীতি

 জ্বালানি সংকটে চাপ, বিকল্প উৎসে ঝুঁকতে তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ২:৪৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। প্রায় এক মাসের বেশি সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়, ফলে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দেশের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও এই নির্ভরতা অর্থনীতিকে অস্থির করে তুলতে পারে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই দুর্বলতাকেই স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

এ প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা জ্বালানি আমদানিতে বৈচিত্র্য আনার ওপর জোর দিচ্ছেন। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি ও এলএনজি আমদানির উদ্যোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বহুজাতিক ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, করমুক্ত সরঞ্জাম সুবিধা এবং সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করলে এ খাত দ্রুত বিকাশ লাভ করবে। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে স্থানান্তরের কথাও বলা হয়েছে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় ধরনের পরিবর্তন জরুরি।

তবে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদে কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি রেশনিং চালু করা, কিউআর-কোড ভিত্তিক ডিজিটাল ফুয়েল পাস ব্যবস্থা চালু করা এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন অফ-পিক সময়ে স্থানান্তর করা। এতে সীমিত জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ খাতে—বিশেষ করে কৃষি ও রপ্তানিমুখী শিল্পে—সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া দেশে স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থায়ী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

১২২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
অর্থনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন