গজারিয়ায় স্থানীয়দের ধাওয়া: জবাইকৃত ঘোড়া ফেলে পালাল অবৈধ মাংস চক্র
বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে ১৩টি জবাইকৃত ঘোড়া ফেলে পালিয়েছে একটি অবৈধ মাংস ব্যবসায়ী চক্র।
বুধবার (৮ মার্চ) ভোরে উপজেলার আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পেছনে একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে এসব ঘোড়া উদ্ধার করা হয়। এ সময় জবাইয়ের উদ্দেশ্যে আনা একটি জীবন্ত ঘোড়াও উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ধারণা, উদ্ধার করা ঘোড়াগুলো থেকে অন্তত ৩০ মণ মাংস পাওয়া যেত।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল মিয়াজী জানান, গত প্রায় ছয় মাস ধরে এলাকায় রহস্যজনক কর্মকাণ্ড চলছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় গ্রামবাসী আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। বুধবার ভোরে তারা হাতেনাতে চক্রটিকে ধরে ফেললেও তিতাস ও রাজিব নামে দুই অভিযুক্তসহ অন্যান্য সদস্যরা স্থানীয়দের চোখের সামনে দিয়েই পালিয়ে যায়।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল হোসেন জানান, প্রতি রবিবার ও বুধবার গভীর রাতে ওই পরিত্যক্ত ঘরের সামনে গাড়ি আসত। পরদিন সকালে সেখানে রক্ত ও হাড় পড়ে থাকতে দেখা যেত। পরে জানা যায়, চক্রটি ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস বস্তায় ভরে গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহ করত। প্রমাণ নষ্ট করতে তারা চামড়া, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি মাটিতে পুঁতে ফেলত।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পুরো বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’ অনুযায়ী ঘোড়া জবাই করার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনাস্থলে কাউকে না পাওয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবাইকৃত ঘোড়াগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
১৪৫ বার পড়া হয়েছে