ঘোড়াঘাটে কয়েকশ' টাকার তেলের আশায় সড়কে রাত্রীযাপন
সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার আলীহাট গাজী আমিনিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানের বাড়ি উপজেলার পার্শ্ববর্তী এলাকায়।
প্রতিদিন ২০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালিয়ে মাদ্রাসায় যাতায়াত করতে হয়। প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় অন্য কোনো যানবাহন না চলাচলের কারণে একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে মোটরসাইকেল বা বাইসাইকেল ব্যবহার করা হয়।
কয়েক দিন ধরে মোটরসাইলে তেলের অভাবে মাদ্রাসায় যাতায়াত করতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। সোমবার ভোর ৬টা থেকে হিলি ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণ শুরু হবে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাওয়া কষ্টকর হওয়ায়, শিক্ষক আব্দুল মান্নান রবিবার এশার নামাজের পরই পেট্রোল পাম্পে আসেন। সারারাত লাইনে অপেক্ষা করে তিনি সকালে তেল সংগ্রহ করবেন।
সোমবার সকালে উপস্থিত হয়ে দেখেন অন্তত ৫শ’ মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। অনেকেই রাস্তার এক পাশে মাদুর বিছিয়ে ঘুমিয়ে রাত কাটিয়েছেন এবং সকালে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। অনেক কষ্টের পর সকাল ১১টায় তিনি ৩০০ টাকার তেল পেতে সক্ষম হন।
তেলের এই সংকট শুধু শিক্ষক আব্দুল মান্নানের জন্য নয়; হাজারো কর্মজীবীও একই সমস্যার মুখোমুখি। আব্দুল মান্নান জানান, মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষকরাও তেল নিতে পাম্পে গিয়েছেন। সারাদিন অপেক্ষার পর বিকেলে তারা তেল সংগ্রহ করতে পেরেছেন। ফলে বেশিরভাগ শিক্ষক ঠিক মতো ক্লাস পরিচালনা করতে পারছেন না।
সোমবার সকালে পাম্প এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, দুই কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ লাইনে মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে রয়েছে। অনেকেই রোববার সন্ধ্যা থেকে লাইনে অবস্থান নিয়েছেন। কেউ কেউ মোটরসাইকেল পাহারা দিতে সড়কের ওপরই বিছানা পেতে রাত কাটিয়েছেন। অনেকে রাতে খিচুড়ি রান্না করে মোটরসাইকেলের পাশে খেয়ে ঘুমিয়েছেন।
তেল নিতে আসা আসলাম মিয়া বলেন, “রাতে মশার কামড়ে ঘুমাতে পারিনি। কত কষ্ট করেছি তা বলার মতো নয়। এত কষ্ট করেও চাহিদা মতো তেল দেওয়া হচ্ছে না। অন্তত ৫শ’ টাকার তেল দিলে ভালো হতো।” তিনি অভিযোগ করেন, অনেকেই সারারাত অপেক্ষা করেও তেল পেতে দীর্ঘ সময় লাইনে থাকতে হয়েছে। কেউ আগে এসে তেল পেয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ পরে আসলেও আগে তেল পাচ্ছেন।
পাম্প সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার তেল বিতরণ করা হচ্ছে। সরবরাহ সীমিত থাকায় আগেভাগেই লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বাইকারদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা জানান, সকাল থেকে হিলি ফিলিং স্টেশন থেকে সুশৃঙ্খলভাবে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। ৩ হাজার লিটার বরাদ্দের মধ্যে প্রতি মোটরসাইকেলে ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আরও একবার তেল বিতরণ করা হবে।
১৩৫ বার পড়া হয়েছে