পার্বত্য চট্টগ্রামে শুরু হলো পাঁচদিনব্যাপী পাহাড়ি ও বাংলা নববর্ষ উৎসব
সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৪৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী এডভোকেট দীপেন দেওয়ান এমপি বলেছেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়গুলোর নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় বর্তমান সরকার কাজ করবে।
বিশেষ করে সংস্কৃতি ও পার্বত্য মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, “পাহাড়ে বাংলা বর্ষ বরণ উৎসব তথা বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান উৎসবগুলোর নামের ভিন্নতা থাকলেও সুর একটাই। এগুলো মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধন। পাহাড় ও সমতলে কোনো বৈষম্য থাকবে না। আমরা এই উৎসবকে এক নামে না বলে, প্রতিটি নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব নাম অনুযায়ী উদযাপন করব। যেমন: চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরাদের বৈসু, তংচংঙ্গাদের বিষু, ম্রো ও চাকদের চাংক্রান।”
তিনি আরও বলেন, “বাঙালীর নববর্ষ ও পাহাড়ের এই প্রাণের মানবিক উৎসব মিলেমিশে এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মহোৎসব সৃষ্টি করেছে। আমাদের সংস্কৃতি যত উন্নত হবে, ততই আমরা এগিয়ে যাব। এই উৎসবের মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে দেশ-বিদেশের সামনে তুলে ধরতে চাই।” তিনি শান্তিপূর্ণ ও জাকজমকপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপনের জন্য সকলকে আহ্বান জানান।
পাহাড়িদের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান ও চাংলান এবং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাঙামাটিতে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসব আয়োজন করেছে রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, যেখানে সার্বিক সহযোগিতা করেছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) অনুপ কুমার চাকমা, এনডিসি, পিএসসি; রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক; রাঙ্গামাটি জোন কমান্ডার লে. কর্নেল একরামুল রাহা; রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী; পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক জিতেন চাকমা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে একটি র্যালী রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ মাঠ থেকে শুরু হয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ নিজস্ব পোশাকে অংশ নেন।
পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, পণ্য প্রদর্শনী, নাটক মঞ্চায়নসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্টল বসানো হয়েছে। উৎসব ১০ এপ্রিল সমাপ্ত হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, বৈসু ও সাংগ্রাইকে ঘিরে রাঙ্গামাটি সহ তিন পার্বত্য জেলায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়েছে। প্রতি বছর চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাই, ত্রিপুরারা বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু এবং অহমিয়া জনগোষ্ঠী বিহু নামে এই উৎসব উদযাপন করে। মূল তিন দিনব্যাপী উৎসব ১২ থেকে ১৪ এপ্রিল পালিত হবে।
১২১ বার পড়া হয়েছে