সর্বশেষ

সারাদেশ

সাউন্ড বক্স নিষিদ্ধ নিয়ে বিতর্ক

কুমারখালীতে নিষেধ অমান্যকারীকে সামাজিকভাবে বহিষ্কারের হুমকি

হাবীব চৌহান, কুষ্টিয়া 
হাবীব চৌহান, কুষ্টিয়া 

শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের বড় মাজগ্রামে সাউন্ড বক্স ও মাইকসেট (গান-বাজনা) ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কেউ এ নির্দেশ অমান্য করলে তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে, এমনকি কবরস্থানে দাফন করতে না দেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিনব্যাপী মাইকিংয়ের মাধ্যমে বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদ কমিটি এ ঘোষণা দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা গ্রামটিতে এক ধরনের নীরবতা বিরাজ করছে। জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিরা বাড়ি ফিরছেন, আর মসজিদের বারান্দায় বসেছে বৈঠক।
মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী জানান, গত ২৭ মার্চ জুমার নামাজ শেষে মসজিদ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বড় মাজগ্রাম মহল্লার কোনো বাড়িতে সাউন্ড বক্স বা মাইকসেট বাজানো হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে ঈদগাহ, মসজিদ ও কবরস্থানের কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হবে। এমনকি তাদের কাছ থেকে মসজিদের জন্য অনুদানও নেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, “উচ্চ শব্দে গান-বাজনার কারণে অসুস্থ ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ কুরবান আলী জানান, বিয়ে বা খৎনা অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স ব্যবহারের কারণে নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত এবং অসুস্থ মানুষের সমস্যা হয়। তবে নির্দিষ্ট স্থানে প্যান্ডেল করে অনুষ্ঠান করতে কোনো বাধা নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একটি খৎনা অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্স বাজানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। জমারত আলী ও রুপা খাতুন দম্পতি তাদের নাতি আলিফের খৎনা অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্স ব্যবহার করেন। যদিও তারা দাবি করেন, নামাজ ও আজানের সময় শব্দ বন্ধ রাখা হয়েছিল।

রুপা খাতুন বলেন, “শুধু একদিন নাতির খুশির জন্য বক্স বাজানো হয়েছিল। সব সময় শব্দ কম ছিল। তবুও কিছু লোক প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি বড় করেছে।”
এদিকে, মাইকিংয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, দেশের প্রচলিত আইনে এভাবে গান-বাজনা নিষিদ্ধ করার সুযোগ নেই। অতিরিক্ত শব্দ হলে তা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের শরণাপন্ন হওয়া যেতে পারে, কিন্তু এভাবে সামাজিক বয়কটের ঘোষণা দেওয়া ঠিক নয়।

কুমারখালীর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস এ ঘটনাকে ‘বাড়াবাড়ি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “প্রত্যেক মানুষ স্বাধীন। কারো ওপর এ ধরনের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেই।”

অভিযোগ অস্বীকার করে বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদের সভাপতি আমির হোসেন বলেন, “সব ধরনের গান-বাজনা বন্ধ করা হয়নি। শুধুমাত্র উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজানো নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। মাইকিংয়ে কী প্রচার হয়েছে, তা আমার জানা নেই।”

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, দেশের আইনে এভাবে গান-বাজনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৫৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন