জ্বালানি আমদানিতে ধাক্কা: যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:২৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। নতুন মাস শুরু হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি; বরং সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা আরও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। নতুন মাস শুরু হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি; বরং সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা আরও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হলেও মার্চ মাসে আগেই বুকিং থাকা এলএনজির কয়েকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছিল। সেগুলো এবং পূর্বের মজুত ব্যবহার করে সরকার পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিল। তবে যুদ্ধ শুরুর পর নতুন করে একটি জাহাজও হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে দেশে আসতে পারেনি।
সরকারি তথ্যমতে, মার্চ মাসে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি, এলপিজি, গ্যাস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি নিয়ে মোট ৩৮টি জাহাজ দেশে এসেছে। কিন্তু বুকিং থাকা সত্ত্বেও এলএনজি ও এলপিজির ২৬টি জাহাজের মধ্যে মাত্র ১৫টি পৌঁছায়। এপ্রিল মাসের জন্য নির্ধারিত চালানেরও বড় অংশ এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পরিকল্পনা অনুযায়ী মার্চে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলবাহী ১৭টি জাহাজ আসার কথা থাকলেও এসেছে মাত্র ১০টি। এতে জ্বালানি এসেছে প্রায় আড়াই লাখ টন, যা নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় অনেক কম। একইভাবে এলপিজির ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ৯টি জাহাজের বিপরীতে এসেছে মাত্র ৫টি। অপরিশোধিত তেলের নির্ধারিত দুটি জাহাজের একটিও পৌঁছায়নি।
সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার বিকল্প দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। গত মাসে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারতসহ মোট ১২টি দেশ থেকে জ্বালানি এসেছে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকেও আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিকল্প উৎস থেকেও সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং স্পট মার্কেট থেকেও বেশি দামে জ্বালানি সংগ্রহ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে এবং এপ্রিল-মে মাসেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলবে। তবে তিনি অতিরিক্ত মজুত, অবৈধ সংরক্ষণ এবং সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান।
এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নেতারা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি। তাদের মতে, অবৈধ মজুত, আতঙ্কে অতিরিক্ত ক্রয় এবং দুর্বল তদারকির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে আগত জাহাজগুলোর বড় অংশই এসেছে বিকল্প দেশ থেকে। অন্যদিকে এপ্রিল মাসের শুরুতে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে, যা সংকটের আশঙ্কাকে আরও জোরালো করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তাই আগাম প্রস্তুতি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।
১২৭ বার পড়া হয়েছে