ইথাকার সন্ধানে এক শব্দ-পরিব্রাজক: সৈয়দ আলী আহসানের কাব্যবিশ্ব
বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:৫২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
আজ ক্যালেন্ডারের পাতায় বসন্তের শেষ বেলা। জানালার বাইরে তাকালে হয়তো দেখা যাবে আকাশচুম্বী দালানের ভিড়ে এক চিলতে আকাশ। আমরা আজ এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে মানুষের মেধা আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সীমারেখা ঝাপসা হয়ে আসছে।
মেটাভার্সের মায়াজাল কিংবা অ্যালগরিদমের নিপুণ হিসেবে যখন আমাদের প্রতিটি আবেগ মাপা হচ্ছে, তখন মানুষের আদি ও অকৃত্রিম যে সত্তা—যা একটু নিরালা খুঁজে পেতে চায়, যা বাতাসের মর্মরে নিজের অস্তিত্বের প্রতিধ্বনি শুনতে চায়—সে বড়ই নিসঙ্গ। এই যান্ত্রিক কোলাহলের মহাসমুদ্রে সাঁতার কাটতে কাটতে আমাদের ক্লান্ত প্রাণ যখন এক গণ্ডুষ শীতল জল চায়, তখনই মনে পড়ে সৈয়দ আলী আহসানের কথা।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সৈয়দ আলী আহসান (১৯২২-২০০২) কেবল একজন কবি বা সমালোচক ছিলেন না; তিনি ছিলেন এক পরিব্রাজক, যিনি শব্দের সিঁড়ি বেয়ে নৈঃশব্দ্যের মন্দিরে পৌঁছাতে চেয়েছিলেন। তিরিশের দশকের আধুনিক কবিরা যখন নগরজীবনের ক্লান্তি, ধোঁয়া আর যন্ত্রের বিষাদকে কবিতার উপজীব্য করছিলেন, সৈয়দ আলী আহসান তখন বাংলা কবিতার ধমনীতে এক নতুন প্রাণরস সঞ্চার করলেন। তিনি নগরকে অস্বীকার করেননি, কিন্তু নগরের হাহাকারকে ছাপিয়ে তিনি এক ধ্রুপদী প্রশান্তি আর আধ্যাত্মিকতার প্রলেপ দিয়েছিলেন। তাঁর কাব্যবিশ্ব যেন প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের এক গভীর আলিঙ্গন—যেখানে ফরাসি প্রতীকবাদ আর বাংলার পল্লী-নিসর্গ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। আজকের এই চরম প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবীতে তাঁর সাহিত্যিক উত্তরাধিকারের পুনর্মূল্যায়ন তাই কোনো একাডেমিক বিলাসিতা নয়, বরং আত্মিক টিকে থাকার এক জরুরি প্রয়োজন।
আহসানের কাব্যদর্শন বুঝতে হলে আমাদের থমকে দাঁড়াতে হবে প্রকৃতির সামনে। তাঁর কাছে প্রকৃতি কেবল পাহাড়, নদী বা অরণ্যের জ্যামিতিক বিন্যাস নয়; প্রকৃতি এক জীবন্ত দর্পণ, যাতে মানুষের আত্মার ছবি ফুটে ওঠে। ফরাসি দার্শনিক মরিস মেরলো-পঁতি তাঁর প্রপঞ্চবিদ্যার আলোচনায় মানুষের দেহ আর প্রকৃতির মধ্যে যে নিবিড় সম্পর্কের কথা বলেছিলেন—যাকে তিনি নাম দিয়েছিলেন ‘ফ্লেশ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ (Flesh of the World)—সৈয়দ আলী আহসানের কবিতায় আমরা সেই সম্পর্কেরই এক নান্দনিক অনুবাদ পাই। কবি যখন প্রকৃতির কথা বলেন, তখন তিনি কোনো দূরবর্তী দর্শক নন, বরং তিনি নিজেই সেই অরণ্যের একটি বৃক্ষ বা সেই নদীর একটি ঢেউ হয়ে ওঠেন।
জীবনানন্দ দাশের কবিতায় প্রকৃতি প্রায়ই বিষণ্ণ, ধূসর আর ইতিহাসের ধুলোয় ঢাকা। কিন্তু আহসানের নিসর্গ ধ্যানমগ্ন। তাঁর ‘একক সন্ধ্যায় বসন্ত’ কাব্যগ্রন্থটি এই ধ্যানমগ্নতার এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। সেখানে প্রকৃতি কোনো জড় পদার্থ নয়, বরং এক আধ্যাত্মিক ইশারা। এই ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে, যখন আমরা জলবায়ু পরিবর্তন আর প্রকৃতির বিনাশ নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন আহসানের ইকো-দর্শন আমাদের এক অন্যরকম পথ দেখায়। তিনি প্রকৃতিকে ভোগের বস্তু মনে করেননি। তিনি শিখিয়েছেন কীভাবে বৃক্ষের নিস্তব্ধতার ভেতরে পরম সত্তার গান শুনতে হয়। তাঁর বর্ণনায় প্রতিটি পাতা, প্রতিটি শিশিরবিন্দু যেন এক একটি স্বর্গীয় চিহ্ন।
প্রকৃতির প্রতি এই যে অপার প্রেম, তা-ই রূপান্তরিত হয়েছে তাঁর সুগভীর দেশপ্রেমে। তবে সৈয়দ আলী আহসানের দেশপ্রেম কোনো রাজনৈতিক শ্লোগানে আবদ্ধ নয়; তা মাটির ঘ্রাণে সিক্ত এক শিল্পতিলক। তাঁর ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য ঐশ্বর্য। এখানে তিনি চিত্রিত করেছেন এক কালজয়ী বাংলাদেশের ছবি:
“এখানে নদীর মত এক দেশ শান্ত, স্ফীত কল্লোলময়ী বিচিত্ররূপিণী অনেক বর্ণের রেখাঙ্কন এ-আমার পূর্ব বাংলা যার উপমা একটি শান্ত শীতল নদী।”
আহসান তাঁর এই কবিতায় এক অদ্ভুত উপমা ব্যবহার করেছেন— ‘স্নিগ্ধ অন্ধকার’। সচরাচর আমরা অন্ধকারকে ভয়ের বা নেতিবাচকতার প্রতীক মনে করি। কিন্তু কবির কাছে এই অন্ধকার মাতৃজঠরের মতো নিরাপদ, শীতল আর উর্বর। তিনি যখন বলেন:
“আমার পূর্ব-বাংলা একগুচ্ছ স্নিগ্ধ অন্ধকারের তমাল অনেক পাতার ঘনিষ্ঠতায় একটি প্রগাঢ় নিকুঞ্জ সন্ধ্যার উন্মেষের মতো সরোবরের অতলের মতো কালো কেশ মেঘের সঞ্চয়ের মতো বিমুগ্ধ বেদনার শান্তি...”
তখন মনে হয়, দেশ কেবল মানচিত্রের সীমানা নয়; দেশ মানে এক বিমুগ্ধ বেদনার শান্তি। এডওয়ার্ড সাঈদ যেমন বলেছিলেন যে, একটি জাতি তার ভৌগোলিক ভূখণ্ডকে কল্পনার মধ্য দিয়ে নতুন করে নির্মাণ করে, আহসানও ঠিক তেমনিভাবে পূর্ব বাংলাকে এক নান্দনিক সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোতে তাঁর এই দেশপ্রেম হয়ে উঠেছিল এক ধারালো তরবারি। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ‘চেনাকণ্ঠ’ ছদ্মনামে তিনি যখন কথা বলতেন, সেই শব্দগুলো অবরুদ্ধ মানুষের কানে পৌঁছে দিত মুক্তির অমোঘ মন্ত্র। একজন ধ্রুপদী কবি কীভাবে সময়ের প্রয়োজনে শব্দসৈনিক হয়ে উঠতে পারেন, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন।
আহসানের কাব্যযাত্রায় প্রকৃতি ও স্বদেশ ছাড়িয়ে যে গন্তব্যের দেখা মেলে, তা হলো আত্মানুসন্ধান। নিজের ভেতরের ‘আমি’কে চেনার এক নিরন্তর ব্যাকুলতা তাঁর কবিতায় ছায়া ফেলেছে। এখানে তিনি সুফিবাদের আধ্যাত্মিকতা আর পাশ্চাত্যের অস্তিত্ববাদের এক চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন। সুফিরা যেমন মনে করেন, মানুষের চূড়ান্ত সার্থকতা হলো নিজেকে চেনার মধ্য দিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে চেনা, আহসানও তাঁর কবিতায় সেই ‘ইনসান-ই-কামিল’ বা পূর্ণাঙ্গ মানুষের সন্ধান করেছেন। তাঁর কাছে একাকিত্ব কোনো অভিশাপ নয়, বরং তা হলো নিজের সাথে আলাপের এক পরম মুহূর্ত।
তাঁর ‘প্রার্থনা’ কবিতায় গ্রিক পুরাণের ইউলিসিসের প্রসঙ্গটি এসেছে এক বিশাল রূপক হয়ে। ইউলিসিস যেমন বহু সমুদ্র আর পাহাড় পেরিয়ে তাঁর আপন ভূমি ইথাকায় ফিরতে চেয়েছিলেন, মানুষের আত্মাও তেমনি সারা জীবন ধাবিত হয় এক পরম আশ্রয়ের খোঁজে। কবি লিখেছেন:
“এভাবেই আমার দিন রাত্রির অধীরতা
অনেক বনের মধ্য দিয়ে
অনেক নদী সমুদ্রের স্বচ্ছতায়
একদিন হয়তো পাহাড়ের দুর্গমতায়
পাথরের নিশ্চেতন সংকট পার হয়ে
ইউলিসিস ইথাকায় ফিরবে।”
এই ‘ইথাকা’ কি কোনো ভৌগোলিক ভূখণ্ড? বোধহয় না। এই ইথাকা হলো নিজের অন্তরাত্মা, যেখানে গিয়ে মানুষ শান্তি পায়। শব্দের সীমানা যেখানে শেষ হয়, সেখান থেকেই আহসানের ‘নৈঃশব্দ্যের ভাষা’ শুরু হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, সবচেয়ে গভীর সত্যগুলো উচ্চারিত হয় নীরবতায়। তাঁর কবিতা পাঠককে কেবল তথ্য দেয় না, বরং এক ধরনের প্রশান্ত নীরবতার মধ্যে ডুবিয়ে দেয়।
একজন বড় শিল্পীর পরিচয় মেলে তাঁর ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারকে বহন করার ক্ষমতায়। টি. এস. এলিয়ট বলেছিলেন, একজন কবি কেবল তাঁর সমকালকে নিয়ে বেঁচে থাকেন না, তাঁর ভেতর সমগ্র অতীত এক জীবন্ত সত্তা হিসেবে বিরাজ করে। সৈয়দ আলী আহসান ছিলেন এই ঐতিহ্যের ধারক। তিনি একদিকে যেমন ফারসি সুফি সাহিত্য ও মধ্যযুগের পদাবলি সাহিত্য থেকে নির্যাস নিয়েছেন, অন্যদিকে সংস্কৃত অলংকারশাস্ত্রের আভিজাত্যকেও নিজের করে নিয়েছেন। তাঁর শব্দচয়ন ছিল অত্যন্ত সচেতন। তৎসম শব্দের গাম্ভীর্যের সাথে তিনি যখন লোকজ শব্দের মাধুর্য মেলাতেন, তখন কবিতার অবয়বে এক ধ্রুপদী আভিজাত্য ফুটে উঠত।
এমনকি তাঁর গদ্যকবিতার ভেতরেও এক অদ্ভুত ছন্দময়তা লক্ষ্য করা যায়। সেটি কোনো কৃত্রিম মাত্রা বা তাল নয়, বরং হৃদস্পন্দনের মতো এক স্বাভাবিক প্রবাহ। তিনি যখন লিখেন:
“তোমাকে আমার শস্যক্ষেত্র
করবো ভেবেছিলাম
যেখানে প্রথম মানুষের
আনন্দকে বপন করবো
আমার দেহের উজ্জ্বল হাসিতে
তোমার শস্যভূমি নাচবে।”
তখন অনুভবের এক তীব্র দহন পাঠককে স্পর্শ করে। ভালোবাসা আর বিরহের এই যে আর্তি, তা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের নয়, তা শাশ্বত। কিন্তু কবি যখন বলেন, “এরপর তুমি যখন আমার সন্ধান করবে, তখন আমার কবরের মধ্যে মাথা রাখবার জন্য একটি শুকনো হাড় পাবে, যা একদিন আমার বাহু ছিল”—তখন সেই হাড়ের শুষ্কতা আমাদের মরণশীলতার কথা মনে করিয়ে দেয়। এই বৈপরীত্যই আহসানকে বড় কবি করে তুলেছে।
২০২৬ সালের এই বসন্তের অপরাহ্ণে আমরা যখন সৈয়দ আলী আহসানকে নিয়ে ভাবছি, তখন একটি প্রশ্ন মনে আসা স্বাভাবিক—তাঁর এই ধ্রুপদী ভাবনার প্রয়োজন আজ কতটুকু? আজ যখন পৃথিবীর সব মানুষ ইন্টারনেটের এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা, কিন্তু আসলে ভেতরে ভেতরে প্রত্যেকে বিচ্ছিন্ন, তখন তাঁর কবিতা আমাদের সেই বিচ্ছিন্নতা ঘোচাতে পারে। প্রযুক্তি আমাদের গতি দিয়েছে, কিন্তু স্থিতি কেড়ে নিয়েছে। আহসানের কবিতা আমাদের সেই ‘ধ্যানমগ্ন স্থিতির’ স্বাদ দেয়।
বিশ্বায়নের এই যুগে আমরা সবাই যখন ‘গ্লোবাল সিটিজেন’ হতে গিয়ে নিজের শিকড় হারিয়ে ফেলছি, তখন তাঁর ‘দেশের জন্য’ কবিতাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় মাটির প্রতি সেই আদিম টানের কথা:
“কখনও পাহাড়
যেখানে পাথর
চিরদিন জেগে থাকে,
কখনও-বা মাঠ
যেখানে ফসল
সবুজের ঢেউ আঁকে।
...
সব কিছু নিয়ে
আমাদের দেশ
একটি সোনার ছবি।”
দেশকে ভালোবাসার এই যে সহজ ভঙ্গি, তা আজ বড় দুর্লভ। আহসান শিখিয়েছেন যে, দেশকে ভালোবাসা মানে কেবল পতাকা বা মানচিত্রকে ভালোবাসা নয়, বরং দেশের প্রতিটি ধূলিকণা, প্রতিটি ঘাস আর প্রতিটি মানুষের হৃদস্পন্দনের কাছে যাওয়া।
সৈয়দ আলী আহসানের সাহিত্যকীর্তি তাই কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের দলিল নয়। তিনি শব্দের সুনিপুণ কারুকাজে এক চিরন্তন নৈঃশব্দ্যের প্রতিমা গড়েছেন। তাঁর কাব্যের নীলিমা আমাদের ক্লান্ত চোখের জন্য প্রশান্তি, আর তাঁর শৈল্পিক সততা আমাদের দিশেহারা সময়ের জন্য দিকনির্দেশক। সভ্যতা যতই সামনে এগোবে, মানুষ যতই যান্ত্রিকতায় নিমজ্জিত হবে, ততই তাকে ফিরে আসতে হবে এই ধ্রুপদী নন্দনতত্ত্বের কাছে।
সৈয়দ আলী আহসান একজন কবির চেয়েও বেশি কিছু ছিলেন—তিনি ছিলেন এক সুদূরপ্রসারী চেতনার নাম। তাঁর শব্দেরা নদীর মতো প্রবহমান, যার উপমা এক শান্ত শীতল নদী। ২০২৬ সালের এই বসন্তের সন্ধ্যায় যখন শেষ সূর্যের আলো দিগন্তে মিলায়, তখন আহসানের সেই স্নিগ্ধ অন্ধকারের কথা মনে পড়ে। আমাদের চারপাশের যান্ত্রিক কোলাহল একসময় থেমে যাবে, কিন্তু আহসানের শব্দের অন্তরালে থাকা সেই পবিত্র নৈঃশব্দ্য ঠিকই বেজে উঠবে আমাদের হৃদয়ে। তিনি যেন সেই ইউলিসিস, যিনি বারবার আমাদের মনে করিয়ে দেন—আমাদের গন্তব্য বাইরে কোথাও নয়, আমাদের গন্তব্য আমাদেরই অস্তিত্বের গভীরে।
তাঁর সাহিত্যিক উত্তরাধিকার আগামী প্রজন্মের কাছে এক আধ্যাত্মিক পাথেয় হিসেবে বেঁচে থাকবে। কারণ, মানুষ যতক্ষণ ভালোবাসবে, যতক্ষণ সে আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলবে, আর যতক্ষণ সে নিজের শিকড়কে খুঁজে ফিরবে, ততক্ষণ সৈয়দ আলী আহসান প্রাসঙ্গিক থাকবেন—এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারার মতো। তাঁর সৃষ্টিতে যে সুন্দরের আরাধনা ছিল, সেই সুন্দরই হোক এই অস্থির পৃথিবীর সর্বশেষ আশ্রয়।
লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক।
১২৬ বার পড়া হয়েছে