মহিপুরে জেলেদের জালে ধরা পড়ল বিরল ব্রাউন সার্জনফিশ
বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৩৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর মৎস্য বন্দর মহিপুর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি ব্রাউন সার্জনফিশ, যা স্থানীয়ভাবে ‘ট্যাং মাছ’ নামেও পরিচিত।
বুধবার বিকেলে মাছটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হলে তা দেখতে ভিড় জমায় স্থানীয় মানুষজন।
জেলেদের সূত্রে জানা যায়, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় হঠাৎ করেই মাছটি তাদের জালে ধরা পড়ে। সচরাচর এ ধরনের মাছ না পাওয়ায় তারা এটিকে তীরে নিয়ে আসেন। মাছটির গায়ের রং ধূসর-বাদামি, দেহ ডিম্বাকৃতি এবং পাশ থেকে কিছুটা চাপা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্জনফিশ সাধারণত ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে থাকে এবং দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরসহ বিশ্বের বিভিন্ন উষ্ণ সমুদ্রে এদের বিচরণ রয়েছে। বাংলাদেশে এই মাছ খাদ্য হিসেবে তেমন জনপ্রিয় না হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যাকোয়ারিয়ামের শোভা বর্ধনের জন্য এর চাহিদা রয়েছে। দেশে এটি সাধারণত কেজি হিসেবে নয়, বরং পিস হিসেবে বিক্রি হয়। বিশেষ করে ‘ব্লু ট্যাং’ প্রজাতির একটি মাছের দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় আব্দুল রহিম মিয়া বলেন, “এমন মাছ আগে কখনো দেখিনি। দেখতে খুবই আকর্ষণীয়, তাই খবর পেয়ে দেখতে এসেছি।”
ওয়ার্ল্ডফিশ-এর সাবেক গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, ব্রাউন সার্জনফিশ খুব দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে। এর লেজের গোড়ায় একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত ধারালো কাঁটা থাকে, যা আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়। এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই মাছটির নাম ‘সার্জনফিশ’ রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ মাছ সাধারণত প্রবালপ্রাচীর এলাকায় বসবাস করে এবং শৈবাল খেয়ে সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের মাছ খুব বেশি দেখা যায় না। তবে বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পানিতে এদের উপস্থিতি রয়েছে। তিনি জেলেদের সতর্ক করে বলেন, মাছটির লেজের ধারালো কাঁটার কারণে ধরার সময় সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
১২২ বার পড়া হয়েছে