মোংলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ, মানববন্ধন
বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৪৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একদল চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সীমাহীন অনিয়ম, রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে মোংলার রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এসব অভিযোগের প্রতিবাদে এবং আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার সকালে মোংলা সরকারি কলেজের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত চিকিৎসকদের হাতে লাঞ্ছনা ও দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন।
সরকারি ওষুধ রোগীদের না দিয়ে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা, সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ক্লিনিকে রোগী দেখা এবং নিম্নমানের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে এই মামলায় ছাত্রদল নেতা সজিব মিয়া শান্ত এবং যুবদল নেতা মো. মানিককে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বক্তারা এই মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে— দুর্নীতিবাজ ও দুর্ব্যবহারকারী চিকিৎসকদের দ্রুত অপসারণ ও শাস্তির ব্যবস্থা, ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের মুক্তি, এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা ও সরকারি ওষুধের নিশ্চয়তা প্রদান।
এদিন মোংলা সরকারি কলেজের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শত শত শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় নারী-পুরুষসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। তারা স্লোগান দেন, “ডাক্তারদের অনিয়ম সইবে না আর মোংলাবাসী” এবং “মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করো, শান্ত-মানিকের মুক্তি দাও”।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা হলে মোংলায় আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চিকিৎসকদের কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
১৫৫ বার পড়া হয়েছে