তেল সংকটে নড়াইলে গ্যাস সিলিন্ডারে চলছে মোটরসাইকেল
বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:১৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নড়াইলে জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন দুই তরুণ। রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে মোটরসাইকেল চালিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন তারা।
গত ১০ দিন ধরে নিয়মিত গ্যাস সিলিন্ডারের মাধ্যমে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন এই দুই ভাই।
জানা গেছে, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের রাধানগর বাজারের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সোহেল শেখ ও জীবন শেখ আপন দুই ভাই। দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে তারা ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজ করে আসছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা মোটরসাইকেলকে গ্যাসনির্ভর করার উদ্যোগ নেন।
তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে পাইপের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ করে মোডিফাই করা কার্বুরেটরের সঙ্গে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বড় আকারের সিলিন্ডার ব্যবহার করা হলেও, এখন তারা ছোট ও বহনযোগ্য সিলিন্ডার ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উদ্ভাবক সোহেল ও জীবন জানান, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না, অনেক সময় পাম্প বন্ধ থাকছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে গ্যাস দিয়ে মোটরসাইকেল চালানোর ধারণা তাদের মাথায় আসে।
তারা আরও জানান, নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে সিস্টেমটি তৈরি করা হয়েছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে মোটরসাইকেলটি চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে এটি ভালোভাবে চলছে। তবে পেছনে বড় সিলিন্ডার থাকায় দুজন বসতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে।
জীবন শেখ বলেন, “গ্যাসে চালানোর ফলে খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পেট্রোল বা ডিজেলের তুলনায় এটি অনেক সাশ্রয়ী।” পরীক্ষায় সফল হলে তারা ভবিষ্যতে গ্যাসেই মোটরসাইকেল চালানোর পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে, এই উদ্ভাবনটি এলাকায় ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন পেশার মানুষ গ্যাসচালিত মোটরসাইকেলটি দেখতে ভিড় করছেন।
স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী জাবের আলী বলেন, “পাম্পের গ্যাস দিয়ে যানবাহন চলে—এটা জানা ছিল। কিন্তু রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে মোটরসাইকেল চলতে পারে, তা আগে জানতাম না। নিরাপদ হলে এটি অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে।”
রাধানগর বাজারের ব্যবসায়ীরাও জানান, এই নতুন পদ্ধতি এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টি দেখতে আসছেন এবং নিরাপদ প্রমাণিত হলে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিবর্তন নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই বিষয়টি যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
১০৮ বার পড়া হয়েছে