সর্বশেষ

সারাদেশ

গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গে ১০ মাসের শিশুর মৃত্যু, এলাকায় আতঙ্ক

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ
বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ

সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬ ১১:২৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মৃত শিশুটির নাম তুবা ইসলাম তোহা। সে স্থানীয় বাসিন্দা তুহিন শেখের তৃতীয় সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মার্চ শিশুটির জ্বর শুরু হয়। পরদিন জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ২৪ মার্চ তাকে একটি স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে নেওয়া হয়। তবে সেখানেও অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তার শরীরে হামের মতো ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

পরিস্থিতির অবনতি হলে ২৬ মার্চ সকালে আবার তাকে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে সেখান থেকে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়।

শিশুটির মা নাজমা বেগম জানান, পরে ঢাকার মালিবাগ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে রাখেন। কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও ২৭ মার্চ দুপুরে শিশুটি মারা যায়।

শিশুটির বাবা তুহিন শেখ বলেন, “আমরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছি, কিন্তু আমার সন্তানকে বাঁচাতে পারলাম না।” পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয় এবং তার জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য সহকারী খোরশেদা মল্লিক ডলি জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুটিকে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে অসুস্থ থাকায় টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন বলেন, শিশুটিকে জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে কেস স্টাডি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত তিন বছরে এ এলাকায় হামের কোনো নিশ্চিত রোগী পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

১০৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন