নারায়ণগঞ্জে জ্বালানি সংকট
ডিপোর সামনে শত শত ট্যাংক-লরি, ৮–৯ দিনেও মিলছে না তেল
সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬ ১০:১৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ডিপোগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র চাপ।
শত শত ট্যাংক-লরি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছে না, ফলে সারাদেশে সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় অবস্থিত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে অস্বাভাবিক চিত্র। মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ও যমুনা অয়েল কোম্পানি-এর ডিপোর সামনে শত শত ট্যাংক-লরি লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের অপেক্ষা করছে।
একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকাতেও। এখানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-এর আওতাধীন পদ্মা অয়েল কোম্পানি ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড-এর ডিপো থেকে বিমান, সামরিক বাহিনীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে এসব ডিপোতে সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
ট্যাংক-লরি চালকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত কোটার কারণে তারা চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে ৮ থেকে ৯ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত তেল মিলছে না।
একজন চালক বলেন, “ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি, অর্ধেক দিন চলে যায় শুধু গেট পর্যন্ত যেতে। এরপরও পুরো তেল পাই না।”
আরেকজন চালক অভিযোগ করে বলেন, “ডিপো থেকে ৮-৯ দিন তেল দেয় না। এতে পাম্পে সংকট আরও বাড়ছে। আমরা সারাদেশে তেল সরবরাহ করি—আমাদের যদি তেল না দেয়, তাহলে কৃষক, পরিবহনসহ সব খাতেই সমস্যা হবে।”
ডিপোগুলোতে সরবরাহ সীমিত থাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতেও চাপ বাড়ছে। এতে পরিবহন, কৃষি ও শিল্পখাতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিপোগুলোর আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা দ্রুত সমাধান না হলে এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আরও গভীরভাবে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
১২৯ বার পড়া হয়েছে