সর্বশেষ

সারাদেশ

কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে স্থাপনা থাকবে না: উচ্ছেদ অভিযান চলমান

আহসান সুমন, কক্সবাজার
আহসান সুমন, কক্সবাজার

সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬ ৬:০২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে কোনো ধরনের স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সৈকত দখল করে গড়ে ওঠা ভাসমান দোকানসহ সব অবৈধ স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে।

রোববার বিকেলে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্ট পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, ইতোমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত পুরো সৈকত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে গত ৯ মার্চ জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা অবৈধ ভাসমান স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরই ধারাবাহিকতায় সুগন্ধা ও কলাতলী এলাকায় অভিযানে প্রায় ৫০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

উচ্ছেদকৃত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

উচ্ছেদ অভিযানের ফলে সৈকতের অনেক এলাকার দৃশ্যপট বদলে গেছে। ভাসমান দোকান সরিয়ে নেওয়ায় এখন সড়ক থেকেই দৃশ্যমান হচ্ছে বালিয়াড়ি ও সমুদ্রের ঢেউ। আসন্ন ঈদে আগত পর্যটকেরা সৈকতের এই নতুন রূপ উপভোগ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান বলেন, প্রতিবছর ৬০ থেকে ৭০ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসেন। তবে বালিয়াড়িতে ঝুপড়ি দোকানের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এসব স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ায় সৈকতের সৌন্দর্য যেমন বেড়েছে, তেমনি কমবে অপরাধ ও পরিবেশ দূষণ।

এদিকে সৈকতে ‘কার্ড বাণিজ্য’ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। প্রায় তিন দশক আগে গঠিত বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নামে দেওয়া পরিচয়পত্র বা ‘কার্ড’ ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ কার্ডধারী বহিরাগত এবং তারা স্থানীয়দের কাছে উচ্চমূল্যে কার্ড ভাড়া দেন।

পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক দাবি করেন, কার্ড বাণিজ্য থেকে বছরে অন্তত ১৫ কোটি টাকা আয় হলেও এর সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, একটি চক্র কার্ড বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে এবং উচ্ছেদ কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি সমুদ্র পরিবেশ রক্ষায় এই বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানান।

জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হবে।

১৩৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন