মোহাম্মদপুর-আদাবরে ৮ হাজার গ্রেপ্তার, তবু থামছে না অপরাধ
সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬ ৫:০৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে দেড় বছরে আট হাজারের বেশি অপরাধী গ্রেপ্তার হলেও অপরাধ প্রবণতা কমছে না। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদককেন্দ্রিক সংঘর্ষসহ বিভিন্ন অপরাধে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই দুই থানায় দুই হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর থানায় ১ হাজার ৭৭৫টি এবং আদাবর থানায় ৩২৭টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার মধ্যে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির ঘটনা উল্লেখযোগ্য।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পুলিশের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়লে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও বছিলা এলাকায় অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। খুন, সন্ত্রাসী হামলা, অস্ত্রের মহড়া এবং প্রতিষ্ঠান দখলকে কেন্দ্র করে একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটে। এ সময় বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্র বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি শুরু করে।
পরবর্তীতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় কিছু অপরাধীকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে দেখা গেছে। নির্বাচন শেষে তারা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
সর্বশেষ গত ৮ মার্চ রাতে তারাবির নামাজ শেষে রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের পাশে হাঁটাহাঁটির সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক মোতাহার হোসেন ছিনতাইয়ের শিকার হন। ছিনতাইকারীরা তাঁকে কুপিয়ে মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় জড়িত দুজনকে জেনেভা ক্যাম্প থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে আদাবরের মনসুরাবাদ হাউজিং এলাকায় একটি কারখানায় চাঁদাবাজির ঘটনায় সন্ত্রাসী হামলা হয়। চাঁদা না পেয়ে এবং ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় হামলাটি চালানো হয় বলে জানা গেছে। পরে এ ঘটনায় রোহান খান রাসেলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযান অব্যাহত থাকলেও অপরাধীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার প্রবণতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদারের কথা জানিয়েছেন তারা।
১৫০ বার পড়া হয়েছে