সর্বশেষ

ফেবু লিখন

ঈদের আনন্দে উচ্ছৃঙ্খল শব্দ: আমরা কোথায় যাচ্ছি?

হাবীব চৌহান
হাবীব চৌহান

রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬ ৫:৫৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদ আসে সংযমের পর উচ্ছৃঙ্খল আনন্দ নয়, বরং শুদ্ধ আনন্দের এক মহৎ উপলক্ষ হিসেবে।

এই উৎসবের ভেতরে আছে আত্মিক প্রশান্তি, সামাজিক বন্ধন, মানবিকতা ও সংস্কৃতির এক অনন্য সম্মিলন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—আমরা কি সেই ঈদের প্রকৃত রূপটাকে ধরে রাখতে পারছি?

ঈদের আগের দিনই যাকাত-ফিতরা আদায় ও কেনাকাটার সমাপ্তি, আর ঘরে ফেরার ব্যস্ততা—এসবই এক মহৎ উদ্দেশ্যের অংশ।
ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই মানুষ ছুটে যায় ঈদগাহে। নামাজ শেষে কোলাকুলি, শুভেচ্ছা—এসব দৃশ্য আমাদের চিরায়ত ঐতিহ্য।

কিন্তু এই সুন্দর চিত্রের মাঝেই ঢুকে পড়েছে এক ধরনের বেসুরো সংস্কৃতি—উচ্চ শব্দে গান বাজানো, যাকে এখন অনেকেই “ঈদ উদযাপন” বলে চালিয়ে দিচ্ছেন।

সোজা কথা বলি—
ঈদ কি শব্দদূষণের উৎসব?
ঈদ কি শক্তিশালী সাউন্ডবক্সের প্রতিযোগিতা?

গ্রাম হোক বা শহর—ঈদের আগের দিন থেকে শুরু করে পরের কয়েকদিন পর্যন্ত পাড়া-মহল্লা কেঁপে ওঠে উচ্চ শব্দের গানে। আমাদের প্রযুক্তিতে উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু রুচির কি উন্নয়ন হয়েছে?

অবাক করা বিষয় হচ্ছে—ঈদের নিজস্ব অসংখ্য গান থাকা সত্ত্বেও সেগুলো বাজানো হয় না। বরং বাংলা, হিন্দি, উর্দু গানের মিশ্রণে এক ধরনের এলোমেলো শব্দের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
এটা শুধু রুচির সংকট নয়, এটা সংস্কৃতির সংকট।

আমরা ছোটবেলায় রেডিওতে ঈদের গান শুনেছি। ইফতারের আগে কোরআন তেলাওয়াত, আর সময় হলে আজানের অপেক্ষা—এসবের মধ্যে ছিল এক ধরনের পবিত্রতা, এক ধরনের আবেগ।

বিদ্যুৎ ছিল না, আধুনিক যন্ত্র ছিল না—তবুও ছিল সৌন্দর্য, ছিল সংযম।

আজ সব আছে—বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, শক্তিশালী সাউন্ড সিস্টেম।
কিন্তু নেই সংযম, নেই বাছবিচার।

প্রশ্ন হলো—
আমরা কি আনন্দ করছি, নাকি অন্যের শান্তি নষ্ট করছি?

ঈদের সময় যে গানগুলো বাজানো হচ্ছে, সেগুলোর ভাষা, কথা, বার্তা—সবকিছুই কি এই পবিত্র উৎসবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? সচেতন মানুষ জানেন, অনেক ক্ষেত্রেই উত্তরটা “না”।

এখানে বিষয়টা শুধু “জায়েজ-নাজায়েজ” বিতর্ক নয়। বিষয়টা হলো—
সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সাংস্কৃতিক রুচি।

একটি উৎসবের নিজস্ব সৌন্দর্য থাকে। ঈদের সৌন্দর্য তার সরলতায়, তার শালীনতায়, তার আত্মিক আবহে।
সেই জায়গায় যদি আমরা কেবল শব্দ আর উচ্ছৃঙ্খলতাকে জায়গা দিই, তাহলে আমরা নিজেরাই আমাদের সংস্কৃতিকে বিকৃত করছি।

এখনই সময় স্পষ্টভাবে বলার—
ঈদের আনন্দ মানে বেপরোয়া শব্দ নয়। ঈদের আনন্দ মানে অন্যের অস্বস্তি তৈরি করা নয়।

বরং—
ঈদের গান বাজুক, মননশীল সাংস্কৃতিক আয়োজন হোক, পরিবারভিত্তিক আনন্দ হোক।
শিশুরা শিখুক সৌন্দর্য, শিখুক শালীনতা, শিখুক প্রকৃত আনন্দের মানে।

নতুন প্রজন্ম আমাদের দেখেই শিখছে।
আমরা যদি শব্দকে আনন্দ ভাবি, তারা সেটাকেই সংস্কৃতি মনে করবে।

তাই এখন সিদ্ধান্ত আমাদের—আমরা কি ঈদকে “উৎসব” রাখব, নাকি “উত্তেজনা” বানিয়ে ফেলব?

আসলে আমাদের চাওয়া উচিত—ঈদ হোক হৃদয়ের, শব্দের নয়।

লেখক: সাংবাদিক।

১২৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
ফেবু লিখন নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন