সর্বশেষ

সারাদেশ

উয়ারী-বটেশ্বরের খ্যাতনামা প্রত্নতত্ত্ববিদ হাবিবুল্লাহ পাঠান আর নেই

শামীম মিয়া, নরসিংদী
শামীম মিয়া, নরসিংদী

শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬ ৪:৩৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
উয়ারী-বটেশ্বরখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ, প্রত্ন ও লোকসাহিত্য সংগ্রাহক এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক-গবেষক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পাঠান (৮৭) আর নেই।

শনিবার (২১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নরসিংদীর বেলাব উপজেলার আমলাব ইউনিয়নের বটেশ্বর গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। ক্যানসার ও বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি।

তিনি উয়ারী-বটেশ্বরখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ, লোকসাহিত্য সংগ্রাহক এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও গবেষক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন মেয়ে ও পাঁচ নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পাঠান দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন। এছাড়াও বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। প্রায় দেড় মাস আগে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। তার ফুসফুসের ক্যানসার চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এ সময় তাকে মুখে খাবার বা ওষুধ খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছিল না। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে সম্প্রতি বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৩৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বটেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পাঠান। তার পিতার নাম হানিফ পাঠান এবং মায়ের নাম মেহেরুন্নেসা। তার পিতা হানিফ পাঠানও একজন লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও গবেষক ছিলেন। বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রবাদ সংগ্রাহক হানিফ পাঠানই প্রথম উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নস্থানকে জনসমক্ষে তুলে ধরেন। পিতার হাত ধরেই হাবিবুল্লাহ প্রত্নসংগ্রহ ও গবেষণায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ১৯৫৫ সালে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি পিতার সঙ্গে উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নস্থলের গবেষণায় সহায়তা করা শুরু করেন। তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় এ অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালিত হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালে উয়ারী-বটেশ্বরে খননকাজ শুরু হয়।

পিতা-পুত্র মিলে ‘বটেশ্বর প্রত্ন সংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার’ নামে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তিন হাজার বছরের পুরোনো বিভিন্ন সরঞ্জামসহ এ অঞ্চলে আবিষ্কৃত নানা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়াও সেখানে দুষ্প্রাপ্য বই, ঐতিহাসিক সাময়িকী ও স্মারক সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পাঠান ২০০৯ সালে বাংলা একাডেমির ফেলো নির্বাচিত হন। ২০২০ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

এছাড়া তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘নরসিংদীর কবি সাহিত্যিক’, ‘নরসিংদীর লৌকিক খেলাধুলা’, ‘প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন: উয়ারী বটেশ্বর’, ‘বাংলাদেশের লোককাহিনী’ (১ম খণ্ড—নরসিংদী), ‘বাংলাদেশের লোককাহিনী’ (২য় খণ্ড—নেত্রকোনা), ‘বাংলাদেশের লোককাহিনী’ (৩য় খণ্ড—ব্রাহ্মণবাড়িয়া), ‘নরসিংদী ও গাজীপুরের লোকঐতিহ্য বিবাহ ও মেয়েলী ছড়া-গীত’, ‘বাংলাদেশের প্রাচীনতম বন্দর নগরী উয়ারী বটেশ্বর’, ‘বাংলাদেশের ভাটকবি ও কবিতা’ (১ম খণ্ড), ‘বাংলা প্রবাদে লোককাহিনী’, ‘উয়ারী বটেশ্বর শেকড়ের সন্ধানে’, ‘নরসিংদীর স্থাননাম উৎস ও বৈশিষ্ট্য সন্ধান’, ‘নরসিংদীর লোককবি’, ‘বাংলাদেশের লোকসাহিত্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও মুক্তিযুদ্ধ’, ‘সেকালের মাসিক পত্রিকা সবুজপল্লী’ এবং ‘বাংলাদেশের ভাটকবি ও কবিতা’ (২য় খণ্ড)।

তার জানাজা শনিবার (২২ মার্চ) বাদ আসর বিকেল সাড়ে ৫টায় স্থানীয় বটেশ্বর স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

১০৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন