সর্বশেষ

সারাদেশ

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের ব্যতিক্রমী ঈদ উদযাপন

লিয়াকত আলী, রংপুর
লিয়াকত আলী, রংপুর

শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬ ১২:২০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক প্রায় ১২০০ বন্দির জন্য ভিন্নধর্মী ঈদ উদযাপনের সুযোগ করে দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

বন্দিদের দেখতে আসা স্বজনদের ফুল দিয়ে বরণ, পানীয় জলের ব্যবস্থা সহ নানা আয়োজন ছিল তাদের জন্য। এছাড়াও ঈদের নামাজ আদায়, উন্নতমানের খাবার পরিবেশনসহ বহুমুখী আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন করেছেন বন্দিরা।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কারাগারে আটক ১২০০-এর বেশি বন্দির জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় কারাগারের অভ্যন্তরে সকল বন্দিকে নিয়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে কারা কর্মকর্তারাও অংশগ্রহণ করেন।

নামাজ আদায়ের পর বন্দিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও মতবিনিময় করেন। অনেক বন্দিকে নতুন পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে ঈদের জামাতে অংশ নিতে দেখা গেছে। ভোর থেকেই বন্দিদের গোসল করে ঈদের পোশাক পরে কারাগারের মাঠে সমবেত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে আটক অনেক রাজনৈতিক সহকর্মীকেও একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে ও কুশল বিনিময় করতে দেখা গেছে।

কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার একেএম কামরুল হুদা জানান, ঈদ উপলক্ষে কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দিদের উন্নতমানের খাবার দেওয়া হয়েছে। সকালে পায়েশ ও মুড়ি দিয়ে নাস্তা, দুপুরে পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরু ও খাসির মাংস, মিষ্টি, সালাদ ও কোল্ড ড্রিংকসের সঙ্গে পান-সুপারির ব্যবস্থা ছিল। রাতের খাবারে সাদা ভাত, রুই মাছ ও আলুর দম রাখা হয়েছে।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের স্বজনদের জন্যও ছিল বিশেষ আয়োজন। কারাগারে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ফুল দিয়ে বরণ, সরবত পরিবেশন এবং দ্রুত সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের দিন বন্দিদের স্বজনরা কারাগারে এসে দেখা করছেন। এ জন্য কারা কর্তৃপক্ষ সামিয়ানা টাঙিয়ে বসার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করেছে। কারাগারের সুপার নিজেই স্বজনদের ফুল দিয়ে বরণ করেন এবং প্রত্যেকের জন্য সরবতের ব্যবস্থা রাখা হয়।

বন্দির স্বজন মোস্তফা জানান, তার ভাতিজা দেড় বছর ধরে কারাগারে আটক রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি দেখা করতে এসেছেন। তিনি বলেন, “আগেও অনেকবার এসেছি, কিন্তু এবার ভিন্ন অভিজ্ঞতা হলো। আমাদের সঙ্গে খুব ভালো আচরণ করা হয়েছে। ফুল দিয়ে বরণ করা হয়েছে, সরবত দেওয়া হয়েছে, বসার ব্যবস্থা ছিল।” তিনি আরও জানান, তার ভাতিজা বলেছে ঈদ উপলক্ষে উন্নতমানের খাবার দেওয়া হয়েছে। এজন্য তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

নীলফামারী থেকে স্বামী শামসুলকে দেখতে একমাত্র কন্যা রাইতাকে নিয়ে আসা আফরোজা ইসলামও কারা কর্তৃপক্ষের আচরণে মুগ্ধতার কথা জানান।

রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে আসা রহিমা বেগম তার একমাত্র ছেলেকে দেখতে এসেছেন, যিনি ১৩ মাস ধরে কারাগারে আটক। তিনি জানান, আগে দেখা করতে এসে নানা বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হতো, তবে এবার ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে। তিনি বলেন, “ছেলের জন্য বিরিয়ানি রান্না করে এনেছিলাম, কিন্তু ছেলে বললো কারাগার থেকেই খুব ভালো খাবার দেওয়া হয়েছে।”

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০০-এর বেশি রাজনৈতিক বন্দিও রয়েছেন, যারা অন্যান্য বন্দিদের সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করেছেন। তবে তাদের অনেক স্বজন দেখা করতে এলেও কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার সাখাওয়াত হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে ঈদের পরের দিন বন্দিদের স্বজনরা তাদের পছন্দের ঘরে তৈরি খাবার দিতে পারবেন এবং সাক্ষাৎ করতে পারবেন। এছাড়া মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত ৫ মিনিট কথা বলার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে, যা কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশনায় বিশেষ আয়োজন হিসেবে রাখা হয়েছে।

সিনিয়র জেল সুপার একেএম কামরুল হুদা বলেন, “এবার আমরা বন্দিদের জন্য নানা আয়োজন করেছি—একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়, কুশল বিনিময়, সর্বোচ্চ মানের খাবারের ব্যবস্থা এবং স্বজনদের সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ, বসার ব্যবস্থা ও ফুল উপহার প্রদানসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এসব আয়োজন কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

১১১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন