কক্সবাজারে সুবিধাবঞ্চিত ২০০ শিশুর মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি
শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬ ৫:৪১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঈদের উপহার পেয়ে আনন্দে ভরে উঠেছে কক্সবাজার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের সুবিধাবঞ্চিত দুই শতাধিক শিশু।
“শিশু আর থাকবে নাকো সহিংসতার ঝুঁকিতে, সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র আছে তাদের সাথে”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে কক্সবাজারে অবস্থিত সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রয় পাওয়া এক সময়কার সুবিধাবঞ্চিত, বিপন্ন ও ঝুঁকিতে থাকা পথশিশুদের নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নানা আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল ঈদের পোশাক ও প্রসাধনী সামগ্রী বিতরণ, ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ, দোয়া ও ইফতার মাহফিল, মেহেদি পরানো এবং আতর ছিটানোর উৎসব।
শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার শহরের আলীরজাহালস্থ কেন্দ্র প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দকে মহিমান্বিত করতে এবং সমাজের একেবারে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশ হিসেবে কেন্দ্রে আশ্রয় পাওয়া প্রায় দুই শতাধিক শিশুর মুখে হাসি ফোটাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আক্তারের সভাপতিত্বে এবং লাইফ স্কিল ট্রেইনার ক্যনু মং মারমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন নিবাসী শিশু নিজাম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, কক্সবাজার জেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ফরহাদ, জাতীয় নাগরিক কমিটির কক্সবাজার জেলার আহ্বায়ক প্রফেসর আকতার আলম, কক্সবাজার পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা শামীম আক্তার, সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছার, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুল আলম, সবুজবাগ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. ইকবাল হোসাইন, ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম রানা, ‘পোশাক’-এর স্বত্বাধিকারী শাহানা মজুমদার চুমকি, ব্যবসায়ী আবুল কালাম চৌধুরী, ‘লাজুক বুটিকস’-এর স্বত্বাধিকারী শামিমা ইসরাত রিনি, কক্সবাজার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ, স্টুডেন্টস প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা মো. আরিফুল্লাহ, এমএসএফ ফ্রান্সের লজিস্টিক ম্যানেজার জুবায়েদ আলম চৌধুরী, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল আলম চৌধুরী, ঠিকাদার রফিকুল আলম চৌধুরী, কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক শাহাজাদী রোমানা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একক ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন নিবাসী শিশু জান্নাতুল মাওয়া মাহিয়া। পরে দলীয় ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন তানিয়া আক্তার ও তার দল। এরপর নিবাসী শিশুদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত ইসলামী নাটিকা ‘ইফতারের আনন্দ ভাগাভাগি করা’ উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।
এ সময় অতিথিবৃন্দ পবিত্র মাহে রমজানের গুরুত্ব এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের মাহাত্ম্য ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন।
পরে কেরাত ও ইসলামী সংগীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষভাগে নিবাসী শিশুদের হাতে ঈদের পোশাক ও প্রসাধনী সামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা।
সবুজবাগ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. ইকবাল হোসাইন দোয়া মাহফিল পরিচালনা করে সকলের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
ইফতার শেষে অতিথিরা শিশুদের সঙ্গে মেহেদি পরানো ও আতর ছিটানোর উৎসবের উদ্বোধন করেন। এতে শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো কেন্দ্র প্রাঙ্গণ।
কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আক্তার বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কেন্দ্রে আশ্রিত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে