রংপুরে এনসিপিতে তোলপাড়
যুগ্ম সদস্য সচিব শেখ রেজওয়ানের পদত্যাগ, আরও নেতার সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন
শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬ ৫:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বহুল আলোচিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব শেখ রেজওয়ান দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তার এই পদত্যাগের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। একই সঙ্গে ঈদের পর আরও কয়েকজন নেতা পদত্যাগ করতে পারেন—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে শেখ রেজওয়ান অভিযোগ করেন, রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের আনা হয়েছে যারা জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি দাবি করেন, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের দলে নেতৃত্বে আনার কারণে দলের আদর্শিক সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “যারা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল না, তাদের দিয়ে বিপ্লবী দলের নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়।” এছাড়া জেলা কমিটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, গ্রুপিং ও বিভাজনকেও তিনি পদত্যাগের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
শেখ রেজওয়ান জানান, জেলা কমিটির সদস্য সচিব এরশাদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় তাকে সরানোর পর ওই পদ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। নিয়ম অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মনিরের দায়িত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। এতে নেতৃত্ব সংকট আরও গভীর হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, জেলা কমিটির এক নম্বর যুগ্ম সদস্য সচিব হওয়া সত্ত্বেও গ্রুপিংয়ের কারণে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি এবং পদটি দীর্ঘদিন শূন্য রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সাদিয়া ফারজানা দিনা ও আসাদুল্লাহ আল গালিবের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জেলা কমিটির আহ্বায়ক আল মামুনের বিরুদ্ধেও বিভাজন তৈরির অভিযোগ করেন শেখ রেজওয়ান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রংপুরে এনসিপির ভেতরে শৃঙ্খলার অভাব ও বিভিন্ন দলের লোকজনের অনুপ্রবেশের কারণে দলীয় সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২ ডিসেম্বর জাতীয় ছাত্র সমাজের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আল মামুনকে আহ্বায়ক এবং এরশাদ হোসেনকে সদস্য সচিব করে রংপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরে গণমাধ্যমে সমালোচনার মুখে এরশাদ হোসেনকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এর আগে শেখ রেজওয়ান এক অডিও কাণ্ডে আলোচনায় আসেন, যেখানে তাকে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হুমকি দিতে শোনা যায়। অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তিনি পরে এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন।
এদিকে দলটির স্থানীয় একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রংপুরে এনসিপির এখনো কোনো স্থায়ী কার্যালয় নেই এবং দলীয় কার্যক্রম মূলত অনানুষ্ঠানিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে এনসিপির রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির কোনো শীর্ষ নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
১৩২ বার পড়া হয়েছে