কুমারখালীতে এসএসসি ব্যাচ ’৯৬-এর উদ্যোগ
ফ্যামিলি ডে, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ৩০ বছর পূর্তি উদযাপনের সিদ্ধান্ত
বৃহস্পতিবার , ১৯ মার্চ, ২০২৬ ৬:১৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এসএসসি ব্যাচ ’৯৬-এর বন্ধুদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুমারখালী পৌর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সভায় ঈদকে কেন্দ্র করে নানা সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, আসন্ন ঈদের পরদিন রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় একই ভেন্যুতে ফ্যামিলি ডে আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বন্ধুদের স্ত্রী-সন্তানদের উপস্থিতিতে পারিবারিক মিলনমেলায় লোকজ খাবার পরিবেশন করা হবে।
এছাড়া মহান স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ উপলক্ষে কুমারখালী বিসিক এর সামনে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে এ ক্যাম্প। চিকিৎসকরা টাউন হলের ভেতরে বসে নিউরো, চক্ষু, মেডিসিন ও দন্ত বিভাগের রোগীদের সেবা প্রদান করবেন। এসময় রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাপত্র দেওয়া হবে এবং সীমিত পরিসরে ওষুধও সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি ৫০ শতাংশ ছাড়ে প্যাথলজি টেস্ট করার সুযোগ থাকবে। এ আয়োজনটি অ্যাড. জাকারিয়া মিলনের সৌজন্যে অনুষ্ঠিত হবে এবং সহযোগিতায় থাকবে কুমারখালী ফ্যামিলি কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল।
সভায় এসএসসি ব্যাচ ’৯৬-এর ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা ও প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ উপলক্ষে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম, ফান্ড সংগ্রহ, ভর্তুকি ব্যবস্থা, র্যাফেল ড্র, কমন গিফট, শিশুদের জন্য উপহার এবং স্কুলভিত্তিক কমিটি গঠনের বিষয়ে মতামত প্রদান করা হয়। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে কুমারখালী সরকারি ডিগ্রি কলেজ ও এম.এন. হাই স্কুলের নাম আলোচনায় আসে। তবে চূড়ান্ত ভেন্যু, তারিখ ও কেন্দ্রীয় কমিটি পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়।
অ্যাড. জাকারিয়া মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যাচের সদস্যরা উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন গঠনমূলক পরামর্শ প্রদান করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাড. জাকারিয়া মিলন বলেন, এসএসসি ব্যাচ ’৯৬ আমাদের জন্য শুধুমাত্র একটি ব্যাচ নয়, এটি একটি পরিবারের মতো। এখানে ধনী-গরিব, বড়-ছোট কিংবা কোনো ধরনের বিভেদ থাকার সুযোগ নেই। আমরা সবাই সমান, সবাই বন্ধু—এই চেতনা নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। অনেক দিন পর আমরা সবাই এক প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হয়েছি, এটাকে আমরা একটি শক্তিতে পরিণত করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু আনন্দ আয়োজন নয়, সমাজের জন্য কিছু করা। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই আমাদের ব্যাচ একটি উদাহরণ হয়ে উঠুক—যেখানে বন্ধুত্ব, মানবতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা একসাথে কাজ করে।
তিনি ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এই আয়োজন সফল করতে হলে আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের বিভক্তি রাখা যাবে না। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেটাকে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। সবাইকে সম্পৃক্ত করে, সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা বড় আয়োজন বাস্তবায়ন করবো। ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন আমরা এমনভাবে করতে চাই, যাতে এটি কুমারখালীর ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।
শেষে তিনি সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা যদি সবাই একসাথে কাজ করি, তাহলে কোনো বাধাই আমাদের থামাতে পারবে না। এই ব্যাচের সম্মান রক্ষায় এবং সফল আয়োজনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
১৩৭ বার পড়া হয়েছে