হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না অস্ট্রেলিয়া ও জাপান
সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ ৫:২৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও জাপান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump মিত্র দেশগুলোর কাছে এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তার আহ্বান জানানোর পর এ অবস্থান জানায় দুই দেশ।
অস্ট্রেলিয়ার পরিবহনমন্ত্রী Catherine King দেশটির গণমাধ্যম Australian Broadcasting Corporation (এবিসি) রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়া কী ধরনের সহায়তা দিতে পারে সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে বিমান সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ওই অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক অস্ট্রেলীয় নাগরিক অবস্থান করায় তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা হরমুজ প্রণালিতে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছি না। বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এ ধরনের কোনো অনুরোধ আমাদের কাছে আসেনি এবং আমরা এমন সহায়তাও দিচ্ছি না।”
অন্যদিকে জাপানও একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Sanae Takaichi পার্লামেন্টে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী তেল ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তায় নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা টোকিওর নেই।
তিনি জানান, এসকর্ট জাহাজ পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জাপান স্বাধীনভাবে কী করতে পারে এবং দেশটির আইনি কাঠামোর মধ্যে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয় এবং এখান থেকেই অনেক দেশ তাদের জ্বালানি পায়।
রবিবার প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান Air Force One-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তেলের মজুত থাকায় সবসময় সেখানে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সাতটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করেছে, যাদের অনেকেই NATO জোটের সদস্য। যদিও কোন দেশগুলো ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে তা এখনই প্রকাশ করা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করেছে। তবে সতর্ক করে তিনি বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি বা সন্ত্রাসী সহজেই প্রণালিতে মাইন পেতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
১৩৭ বার পড়া হয়েছে