লালমনিরহাটে এমপির নামে ভিজিএফ চালের ৩০% দাবি, কল রেকর্ড ফাঁস
সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ ৫:১৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
লালমনিরহাট–২ (আদিতমারী-কালিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের নামে ভিজিএফ চালের ভাগ চাওয়ার একটি কথিত কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এতে কালিগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপ্লব হোসেনের কাছে একই উপজেলার বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজকে এমপির নামে ঈদ উপলক্ষে বরাদ্দ আসা ভিজিএফ চালের ৩০ শতাংশ দাবি করতে শোনা যায় বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই কল রেকর্ডে বিএনপি নেতা সবুজকে বলতে শোনা যায়, “এমপি সাহেবের থার্টি পার্সেন্ট আপনি বুঝিয়ে দিয়েছেন?” জবাবে চেয়ারম্যান বিপ্লব হোসেন বলেন, তারা এ বিষয়ে একটি মিটিং করেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দুইজন প্রতিনিধি দেবেন। তখন সবুজ বলেন, “আপনি এমপির প্রতিনিধি নিয়েছেন?” উত্তরে চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিনিধি দেবেন উপজেলা ইউএনও।
এরপর কথোপকথনে সবুজকে বলতে শোনা যায়, “আপনি ১০০৩টি টোকেন বুঝিয়ে দেবেন। বিনা ভোটের এমপি যখন ছিল তাদেরকে তো সুন্দরভাবে বুঝাইয়া দিছেন। আমরা কিন্তু বিনা ভোটে হই নাই। আমরা কিন্তু অতীতকে ভুলি নাই। আমাদের বরাদ্দ নিয়ে আপনি কিভাবে মিটিং করেন? আপনি ১০০৩ টোকেন বুঝাইয়া দিবেন! সবুজকে আপনার চিনতে হবে না, সবুজকে চেনা লাগবে না।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মদাতী ইউনিয়নে দুস্থ ও অতি দরিদ্র মানুষদের জন্য ৩ হাজার ৩৪৫টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই বরাদ্দের মধ্যে থেকে সংসদ সদস্যের নামে ৩০ শতাংশ হিসেবে ১ হাজার ৩টি কার্ড দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে এ বিষয়ে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান সবুজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ফেসবুকে যে কল রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে তা তার নয়। চেয়ারম্যান বিপ্লব হোসেনের সঙ্গে তার কখনো এ ধরনের কোনো কথোপকথন হয়নি। তার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চেয়ারম্যানের কাছে এমপির নামে ৩০ শতাংশ ভিজিএফ চাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দও জানেন এবং তারা এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
অন্যদিকে গত বুধবার গভীর রাতে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ইউপি চেয়ারম্যান বিপ্লব হোসেনকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
১২০ বার পড়া হয়েছে