চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃদ্ধাশ্রমে বাড়ছে প্রবীণদের সংখ্যা, উদ্বিগ্ন সচেতন মহল
শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬ ৭:০৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে পারিবারিক কাঠামো ও সামাজিক মূল্যবোধ। একসময় যাদের স্নেহ-ভালোবাসা ও ত্যাগের মাধ্যমে সন্তানরা বড় হয়ে ওঠে, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই বাবা-মায়ের অনেকেই এখন আশ্রয় নিচ্ছেন বৃদ্ধাশ্রমে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জেও দিন দিন বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসকারী প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
জেলার একটি অসহায় বৃদ্ধাশ্রমে বর্তমানে প্রায় ১৯ থেকে ২০ জন প্রবীণ নারী ও পুরুষ বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই সন্তানদের অবহেলা, পারিবারিক ব্যস্ততা কিংবা সন্তানদের প্রবাসে থাকার কারণে বাধ্য হয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ একাকীত্ব দূর করতে স্বেচ্ছায় বৃদ্ধাশ্রমে এসে বসবাস শুরু করেছেন।
বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসকারী প্রবীণ আব্দুল করিম, সামাদ ও সরিফুলসহ কয়েকজন জানান, জীবনের শেষ সময়ে পরিবারের সান্নিধ্যই মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। কিন্তু নানা কারণে অনেক সময় সন্তানদের কাছ থেকে সেই সময় ও যত্ন পাওয়া যায় না। ফলে বাধ্য হয়েই তাদের এখানে থাকতে হচ্ছে। তারা বলেন, বৃদ্ধাশ্রমে থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও পরিবারের ভালোবাসা ও কাছের মানুষের সান্নিধ্যের অভাব সবসময়ই অনুভূত হয়।
সমাজবিদদের মতে, আধুনিকতার প্রভাবে যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে এবং একক পরিবার ব্যবস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগ কমে যাচ্ছে। যা প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বৃদ্ধাশ্রম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন মমিন বলেন, “এখানে যারা বসবাস করছেন তাদের বেশিরভাগই অসহায় ও অবহেলিত। আমরা চেষ্টা করছি তাদের জন্য থাকার জায়গা, খাবার ও প্রয়োজনীয় যত্নের ব্যবস্থা করতে। তবে সবচেয়ে বড় অভাব হলো পরিবারের ভালোবাসা ও সময়।”
তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের প্রতি সমাজের সকলের আরও সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। পরিবারে তাদের যথাযথ সম্মান ও যত্ন নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। কারণ বাবা-মা শুধু পরিবারের সদস্য নন, তারা জীবনের প্রথম শিক্ষক এবং সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
১২৪ বার পড়া হয়েছে